Aaj lndia Desk,কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র একটি মন্তব্য। তাঁর ব্যবহৃত “শুক্রবারী” শব্দকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে এক খোলা চিঠি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে নিজেকে “একজন গর্বিত শুক্রবারী” পরিচয় দিয়ে লেখক মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। যদিও চিঠিটির লেখক পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি,
চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনো অপরাধীর পরিচয় কি তার ধর্ম, নাকি তার অপরাধ? লেখকের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে আইনের চোখে তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু সেই অপরাধকে একটি ধর্মীয় পরিচয় বা ধর্মীয় দিনের সঙ্গে যুক্ত করলে তা সমাজে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, অন্য কোনো ধর্মের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হলে একইভাবে বিতর্ক তৈরি হতো।
একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বহু ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের রাজ্য। এখানে হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়ই দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্বে থাকা একজন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বেশি গুরুত্ব পায়। তাই তাঁর ব্যবহৃত শব্দচয়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক সমালোচনা হতে পারে ব্যক্তি, দল বা নীতিকে কেন্দ্র করে; কিন্তু তা যদি কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে মিশে যায়, তাহলে তার সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, শাসকপক্ষের সমর্থকদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা উচিত এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আচরণকে লক্ষ্য করেই ওই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অপমান করার উদ্দেশ্যে নয়।
তবে এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন একটি বহুত্ববাদী রাজ্যে রাজনৈতিক ভাষা কতটা সংযত হওয়া উচিত? গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বও যে অনেক বেশি, সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া খোলা চিঠির বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে লেখকের নিজস্ব মতামত। এর দাবিগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


