Aaj India Desk, বীরভূম : রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (Ashis Bandyopadhyay) – এর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার রামপুরহাটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শোক প্রকাশ অনুব্রত মণ্ডলের
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। তিনি বলেন, আশিসবাবু অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা তিনি জানেন না বলেও জানান অনুব্রত। পাশাপাশি, প্রাক্তন বিধায়কের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন বীরভূমের এই তৃণমূল নেতা।
‘চাপ দিয়ে শিবিরে নেওয়া হয়েছিল’, দাবি কুণাল ঘোষের
অন্যদিকে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, আশিসবাবুকে চাপ সৃষ্টি করে ‘নব্য তৃণমূল’ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কুণালের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই থাকা ভালো এমন মত তিনি দলীয় নেতাদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু দুর্নীতির তদন্ত থেকে বাঁচতে ওই শিবিরে যাওয়া কয়েকজন তাঁকে সেখানে থাকতে বাধ্য করেছিলেন বলে সূত্রের উল্লেখ করে দাবি করেছেন কুণাল।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ধ্রুব সাহার
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রামপুরহাটের বর্তমান বিধায়ক ধ্রুব সাহা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর আশীর্বাদ নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, শেষ সাক্ষাতে এমন কোনও ইঙ্গিত পাননি যে আশিসবাবু আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কেন জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে এমন ঘটনা ঘটল, তার পিছনে পারিবারিক বা রাজনৈতিক কোনও কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি ধ্রুবর। প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ কোনও সংস্থাকেও তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া ‘সুইসাইড নোটে’ কী লেখা রয়েছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া দরকার বলে জানান রামপুরহাটের বিধায়ক।


