Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : থানার ভিতরে বা রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিশের ভিডিও রেকর্ড (Police Video Recording) করা কি আইনত বৈধ? এই প্রশ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল বিভ্রান্তি। তবে সম্প্রতি গুজরাট হাইকোর্টের একটি মামলার শুনানিতে সেই বিভ্রান্তি দূর করলো আদালত। আদালতের রায় অনুযায়ী, শুধুমাত্র ভিডিও রেকর্ডিংয়ের কারণে কাউকে আইনভঙ্গকারী বলা যায় না। তবে সেই অধিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
জুন মাসে গুজরাট হাইকোর্টে একটি পুলিশি নির্যাতনের মামলার শুনানির সময় পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অভিযোগকারীরা থানার ভিতরে মোবাইলে ভিডিও (Police Video Recording) করছিলেন, যার জেরে পরিস্থিতির অবনতি হয়।শুনানিতে বিচারপতি নির্ঝর এস. দেশাই পুলিশের কাছে জানতে চান, কোন আইন বা সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী থানার ভিতরে ভিডিও রেকর্ডিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে এমন কোনও নির্দিষ্ট আইন বা বিধির উল্লেখ করতে পারেনি পুলিশ। শুনানির সময় বিচারপতি আরও মন্তব্য করেন, অনেক থানাতেই সিসিটিভি কার্যকর অবস্থায় থাকে না। ফলে কোনও ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই প্রেক্ষিতে তিনি পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তদন্তে স্বচ্ছতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এর আগে ২০২২ এবং ২০২৪ সালে বোম্বে হাইকোর্ট পৃথক কয়েকটি মামলায় জানিয়েছিল, Official Secrets Act, 1923-এর আওতায় সাধারণ পুলিশ স্টেশনকে নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে থানার ভিতরে সাধারণ পরিস্থিতির ভিডিও (Police Video Recording) করলে তা গুপ্তচরবৃত্তি হতে পারে না।
অর্থাৎ পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনও বাধা সৃষ্টি না করে যে কোনও নাগরিক শান্তিপূর্ণভাবে নিজের সুরক্ষা বা সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে পুলিশের আচরণ ভিডিও করতেই পারেন। আইনসম্মত কারণ ছাড়া পুলিশ কারও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া বা ভিডিও মুছে দিতে বাধ্য করতে পারে না। তবে নির্দিষ্ট তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ এবং পূর্ববর্তী রায়গুলির আলোকে স্পষ্ট, নাগরিকদের ভিডিও রেকর্ড করার অধিকার রয়েছে। তবে আইন মেনেই সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হবে।


