কলকাতা: কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়েতে বাঁকড়া মসজিদ (Bankra Mosque) স্থানান্তর নিয়ে চরম বিতর্ক চলছে। এরই মাঝে বৃহস্পতিবার কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে আজ অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ১১ টায় সেখানে নামাজ পড়ার ডাক দিয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী (Siddiqullah Chowdhury)। তাতে বাধা দিলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করবেন বলেছিলেন জমিয়ত উলেমা এ হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।
জুম্মার নামাজ পড়ার ঘোষণা ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় জারি করা হয় ১৬৩ ধারা। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী, র্যাফ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাখা হয় জলকামান। তবে শেষ মুহূর্তে কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ালেন জমিয়ত উলেমা-এ-হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী (Siddiqullah Chowdhury)।
শুক্রবার সকালে বিমানবন্দর চত্বরে পৌঁছে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিদ্দিকুল্লাহ। এরপরই তিনি জানান, এদিন আর কোনও কর্মসূচি হবে না। যদিও কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। বিমানবন্দর এলাকায় গিয়েও শেষ পর্যন্ত ফিরে যান তিনি।
প্রসঙ্গত, দমদম বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য বাঁকড়া মসজিদ (Bankra Mosque) স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেখানে নিয়মিত নামাজ ও যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরই প্রতিবাদে ওই মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়ের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী (Siddiqullah Chowdhury)।
সেই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কলকাতা বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এবং সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।বিধাননগর পুলিশ গোটা এলাকা নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলে। বিরাটি ও বাঁকড়া এলাকাজুড়ে ছিল চাপা উত্তেজনা। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্দিকুল্লাহর কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো গিয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। এখন বাঁকড়া মসজিদ (Bankra Mosque) স্থানান্তর নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।


