Aaj lndia Desk, নয়াদিল্লি : দিল্লির যন্তর-মন্তরে টানা ২০ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। শরীর ভেঙে পড়ছে, কিন্তু দাবির প্রশ্নে এখনও অনড় তিনি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, নিজের থেকে উঠে বসার ক্ষমতাও প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানা যাচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে তাঁর।
চিকিৎসকদের দাবি, দীর্ঘ অনশনের জেরে ওয়াংচুকের ওজন ইতিমধ্যেই প্রায় ৯ কেজি কমে গিয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, লিভার, কিডনি-সহ শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অর্থাৎ, অর্গ্যান ফেলিওরের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকও। আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এমন কথা বলতে না চাইলেও তাঁর মনে হচ্ছে, সোনম ওয়াংচুক যেন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
এই পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল বার্তায় জানিয়েছেন, আন্দোলনের দাবিগুলির প্রতি কংগ্রেসের সমর্থন রয়েছে। তবে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে তাঁকে অনশন ভেঙে অন্যভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আবেদনও জানিয়েছে হাত শিবির।
তবে এখানেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। কংগ্রেস সমর্থন জানালেও এখনও পর্যন্ত যন্তর-মন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেননি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অথচ পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে তিনিও সরব ছিলেন। ফলে রাহুলের এই অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার আন্দোলনস্থলে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর দাবিও তোলেন।
ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্টও হস্তক্ষেপ করেছে। আদালত প্রশাসনকে তাঁর স্বাস্থ্যের উপর প্রতিদিন নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করার কথা বলা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান।”
তবে এত আবেদন, উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক সমর্থনের পরেও নিজের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ ওয়াংচুক। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সরকারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙার প্রশ্নই নেই। বরং তিনি ছাত্র-যুব ও সাধারণ মানুষকে আগামী ২০ জুলাইয়ের শান্তিপূর্ণ ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রশ্নফাঁস রোধ, পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে যন্তর-মন্তরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে তাঁর দাবিগুলি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


