27 C
Kolkata
Monday, April 20, 2026
spot_img

টিকিট নিয়ে অশান্তি, দলেই ভাঙন! মন্তেশ্বরের মঞ্চ থেকে কড়া বার্তা মমতার 

Aaj India Desk, পূর্ব বর্ধমান: মন্তেশ্বরে প্রচারে গিয়ে টিকিট বিতরণ ঘিরে তৈরি হওয়া গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এলাকায় সংঘর্ষের খবরের প্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন দল যাঁকে প্রার্থী করেছে, তিনিই চূড়ান্ত।মমতার বার্তা একেবারে পরিষ্কার টিকিট না পেলে অসন্তোষ থাকতেই পারে, কিন্তু দলবিরোধী কাজ বরদাস্ত হবে না দলে থাকতে না চাইলে বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা খোলা তবে আড়ালে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা একেবারেই মেনে নেওয়া হবে না কঠোর সুরে তৃণমূলনেত্রীর এই বার্তা ভোটের মুখে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রবিবার মন্তেশ্বরে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর (Siddiqullah Chowdhury)-র সমর্থনে প্রচারে গিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা থেকে পরিচয়ের রাজনীতি সবটাই একসঙ্গে তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।তাঁর বক্তব্যে ছিল একদিকে বাস্তবের স্বীকারোক্তি, অন্যদিকে কড়া নির্দেশ টিকিট নিয়ে স্পষ্ট বার্তা “কেউ টিকিট চাইতেই পারেন, সেটা অপরাধ নয়। কিন্তু শেষমেশ দল যাকে টিকিট দেয়, তিনিই একমাত্র প্রার্থী”এই বলে ভেতরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ইতি টানার চেষ্টা মমতার।

প্রতীকেই আস্থা রাখার ডাক

“জোড়াফুল যে পায়, সে-ই আমার প্রার্থী”প্রতীককেই সামনে রেখে ভোটারদের কাছে সরাসরি আবেদন।

রাজনৈতিক বার্তার বিস্তার

মমতার ভাষণে উঠে আসে বড় ইস্যুগুলোও ওয়াকফ রক্ষা, ভাষার অস্তিত্ব, NRC-র বিরোধিতা, ডিটেনশন ক্যাম্পের আশঙ্কা সব মিলিয়ে ভোটের লড়াইকে শুধু প্রার্থী নয়, পরিচয় ও অধিকারের প্রশ্নে নিয়ে গেলেন তিনি। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ লাইন “জোড়াফুল মানে তৃণমূল, তৃণমূল মানে আমি”এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, দল ও নেতৃত্বকে একসুতোয় বেঁধে ভোটের বার্তা দিতে চাইছেন তিনি।

ভোটের আগে এই ভাষণ শুধু গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামানোর চেষ্টা নয়, বরং সমর্থকদের একজোট করার বড় রাজনৈতিক কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মন্তেশ্বরে প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee ) এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “এত অত্যাচার, এত অনাচার লজ্জা করে না?” পাশাপাশি নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে জানান, তিনি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ৩২ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন, বাকি বিষয় ট্রাইবুনালে বিচারাধীন থাকবে। ভোটাধিকার ও অধিকার রক্ষার প্রসঙ্গও জোর দিয়ে তুলে ধরেন তিনি।

একইসঙ্গে মন্তেশ্বরে প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও সামনে আসে। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর (Siddiqullah Chowdhury)-কে প্রার্থী করার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, আবির খেলা ঘিরে উত্তেজনা এবং বোমাবাজির অভিযোগ পর্যন্ত ওঠে, পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই প্রেক্ষাপটে মমতার বার্তা রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে দলে প্রার্থী যিনি, তিনিই চূড়ান্ত, এবং শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন