কলকাতা: ক্ষমতার হাতবদল হতেই ছিন্নভিন্ন ঘাসফুল! একসময় মমতার ‘নয়নের মণি’ জুন বর্তমানে পা বাড়িয়েছেন এনডিএ-এর দিকে। সোমবার দিল্লির পর মঙ্গলবার কোলাঘাটে শুভেন্দুর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকেও হাজির হয়েছিলেন মেদিনীপুরের তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া (June Malia)। সঙ্গে ছিলেন কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা, খড়্গপুর গ্রামীণ কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায় এমনকি ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেবও (Dev)।
লোকসভায় এনডিএ সমর্থনকারী ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূলের মধ্যে দেব ছিলেন অন্যতম। গতকাল বৈঠক শেষে সমাজমাধ্যমে পোস্টও দিয়েছিলেন অভিনেতা সাংসদ দেব। তিনি লিখেছিলেন, ‘যেখানে থাকার কথা, সেখানে ফিরে এসেছি’। আর তাঁর পরদিনই কোলাঘাটে শুভেন্দুর সভায় তাঁর উপস্থিতি, তৃণমূল ভাঙনের আবহে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্ব নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন আরও এক তারকা তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। চারবারের সাংসদের দাবী, ‘গত কয়েক বছরে দিদি বদলে গিয়েছিলেন।’ সাংসদদের কথা শোনা হত না বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, দলের মধ্যে সাধারণ সাংসদদের কথা শোনার কোনও পরিবেশই ছিল না। “মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি, কিন্তু সেই সুযোগ পাইনি। শুধুমাত্র বাছাই করা কয়েকজন নেতারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে পৌঁছনোর সুযোগ ছিল,” বলেন তিনি।
শতাব্দীর (Shatabdi Roy) অভিযোগ, শুধু তিনিই নন, বিদ্রোহী শিবিরে থাকা অন্যান্য সাংসদদেরও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যের মন্ত্রীদের কাছেও সাধারণ সাংসদদের মতামত জানানোর সুযোগ ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোনও আলোচনা হত না, বরং প্রশ্ন তুললেই চুপ করে থাকতে বলা হত। দলের দুর্বল সময়ে কেন তাঁরা মুখ খুলছেন, সেই প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন শতাব্দী (Shatabdi Roy)। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে দলের অন্দরের বাস্তব ছবি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিজের কেন্দ্রের মানুষের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
একইসঙ্গে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে অভিনেত্রী-সাংসদ বলেন, “তৃণমূলের নিচুতলা থেকে ওপরতলা পর্যন্ত দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি দেখে আমি অত্যন্ত হতাশ।” তবে নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। শতাব্দীর দাবি, “আমার ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন। সেটা রক্ষা করার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ের প্রয়োজন নেই।”


