নয়াদিল্লি: দিল্লির রাজপথে ফের চড়ছে আন্দোলনের পারদ। তবে এবার কোনও ‘আরশোলা’ বাহিনী নয়! কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আন্দোলনের ময়দানে নামছেন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF Ex-Jawan Protest) অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানরা। আগামী ১২ নভেম্বর, রাজধানীর যন্তর মন্তরে অনশন কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা করেছে এক্স প্যারামিলিটারি ফোর্সেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনের অভিযোগ, সদ্য কার্যকর হওয়া সিএপিএফ (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) আইন, ২০২৬ আধাসেনার নিজস্ব ক্যাডারের পদোন্নতির পথ কার্যত সংকুচিত করে দিচ্ছে। পাশাপাশি, পুরনো পেনশন স্কিম (ওপিএস) পুনর্বহাল এবং উচ্চপদে ডেপুটেশনে থাকা আইপিএস আধিকারিকদের আধিপত্য কমানোর দাবিও তুলেছেন প্রাক্তন জওয়ানরা (CAPF Ex-Jawan Protest)।
অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রণবীর সিং দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আগেই চিঠি দিয়ে আইন প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু ইতিবাচক সাড়া না মেলায় এবার অনশনই তাঁদের শেষ পথ। তাঁর কথায়, “দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বদলে যদি ডেপুটেশনে থাকা আমলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে আধাসেনার কর্মীদের আত্মসম্মান নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।”
কেন বিতর্কের কেন্দ্রে নতুন আইন?
৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনে আইজি পদের ৫০% আইপিএস আধিকারিকদের জন্য সংরক্ষিত। এডিজি পদের অন্তত ৬৭% ডেপুটেশনে থাকা আইপিএসদের দ্বারা পূরণ করা যাবে। স্পেশাল ডিজি ও ডিজি পদ শুধুমাত্র আইপিএস ক্যাডারের জন্য নির্দিষ্ট।ডিআইজি স্তরে আগের সীমাবদ্ধতা শিথিল হওয়ায় আইপিএস নিয়োগের সুযোগ আরও বেড়েছে।
প্রাক্তন আধাসেনা কর্মীদের অভিযোগ, আগে যেসব নিয়োগ নির্বাহী আদেশে হতো, এবার সেগুলিকে আইনি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ফলে নিজস্ব ক্যাডারের অফিসারদের উন্নতির সুযোগ আরও কমে যেতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন
সংগঠনের দাবি, গত বছর সুপ্রিম কোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে বিএসএফ, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি-তে আইজি স্তর পর্যন্ত আইপিএস ডেপুটেশন ধাপে ধাপে কমানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, সেই নির্দেশ কার্যকর করার বদলে নতুন আইন এনে আইপিএসের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
এখন নজর ১২ নভেম্বরের দিকে, যন্তর মন্তরের অনশন (CAPF Ex-Jawan Protest) কি কেন্দ্রকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারবে, নাকি সংঘাত আরও তীব্র হবে, সেটাই দেখার।


