Aaj India Desk, কলকাতা : বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘনিষ্ঠদের একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যে। গতকাল রাতে তাঁর আপ্ত সহায়ক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি চন্দ্রনাথ রথ খুন হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া একাধিক অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড।
এক দশকে চার ঘনিষ্ঠের মৃত্যু
২০১৩ সালে খুন হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্ত সহায়ক প্রদীপ ঝা। এরপর ২০১৮ সালে খুন হন তাঁর দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তী। ২০২১ সালে মৃত্যু হয় আর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী পুলক লাহিড়ীর। আর এবার ২০২৬ সালে খুন হলেন চন্দ্রনাথ রথ। এই চারটি ঘটনার মধ্যে প্রথম তিনটির তদন্ত আজও সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এখনও পর্যন্ত কোনও মামলাতেই অপরাধীদের শনাক্ত বা দোষীদের শাস্তির খবর সামনে আসেনি। বর্তমানে চন্দ্রনাথ রথের খুনের তদন্ত শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত ধোঁয়াশা কাটেনি।
চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে পুরনো সব মামলার ফাইল পুনরায় খোলার দাবি জোরালো হয়েছে। অনেকের বক্তব্য, একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় যদি কোনও যোগসূত্র থেকে থাকে, তবে তা প্রকাশ্যে আনা দরকার। এছাড়াও নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিচার প্রত্যাশায় বাঙালিরা
এই ঘটনায় বাঙালিদের মধ্যেও ক্ষোভ জোরালো হচ্ছে। এক দশকের ব্যবধানে বারবার ঝরে গিয়েছে বাংলার সন্তানদের প্রাণ। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন বারবার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন বাঙালি তরুণেরা, যারা কোনও না কোনওভাবে শুভেন্দু অধিকারী ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক, ক্ষোভ এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ছড়াচ্ছে বাংলার মানুষের মধ্যে। বহু মানুষের বক্তব্য, মতাদর্শ আলাদা হলেও বাংলার মাটিতে বাঙালির রক্ত ঝরার প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার হওয়া জরুরি।অতীতের এই অমীমাংসিত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলিও। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।


