Aaj India Desk, কলকাতা : নির্বাচনের মুখে ভাইরাল হওয়া হুমায়ুন কবিরের স্টিং ভিডিও ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) কলকাতা হাই কোর্টে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে অপদস্থ করতে এই ভিডিও ছড়ানো হয়েছে বলেই তাঁর দাবি।
গত ৯ এপ্রিল প্রকাশ্যে আসে একটি স্টিং ভিডিও। সেখানে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) এক বিজেপি নেতার সঙ্গে কথোপকথনে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই বিষয়ে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়াও ভিডিওতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি করেন এবং মোহন যাদবের ও হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করেন।
ভিডিওতে মুসলিম ভোটে প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনের ফল বদলানোর পরিকল্পনার কথাও শোনা যায়। ভিডিওতে হুমায়ুন দাবি করেন, নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনে জিততে পারলে তাঁকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে বিপুল অর্থ খরচের প্রয়োজন রয়েছে যা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তবে এই ভিডিওর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। হুমায়ুন কবীর নিজে দাবি করেছেন, এটি একটি সাজানো ষড়যন্ত্র। ফলে শুক্রবার জাস্টিস সৌগত ভট্টাচার্যর বেঞ্চে এই মামলা দায়ের হয়। আবেদনকারী হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) দাবি, স্টিং ভিডিওটির সত্যতা যাচাই না করেই তা ভাইরাল করা হয়েছে, যা তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। আদালতের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। মামলার শুনানি হতে পারে আগামী ২২ এপ্রিল।
অন্যদিকে, ভিডিওটির সাথে বিজেপির নাম উঠে আসায় নিজেদের কালিমালিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা এই ভিডিওকে নকল বলে উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে এসে ইঙ্গিত দেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে তৈরি হতে পারে। উল্টে তিনি তৃনমূল কংগ্রেসকে দোষারোপ করে বলেন, এসব ইচ্ছাকৃত বিজেপির নাম খারাপ করার জন্যই করা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে পাল্টা অভিযোগের সুর চড়া হয়েছে।এবার আদালতে তদন্তের নির্দেশ এলে এই বিতর্কে কোন নতুন মোড় আসতে পারে সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।


