Aaj India Desk, কলকাতা: প্রশান্ত বর্মন (Prashant Barman) ও শানু বক্সিকে (Shanu Boxi) ঘিরে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এখন অনেকেই মনে করছেন পুরো বিষয়টির তদন্ত হওয়া যেন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শুধু WBCS নয়, পরিকল্পনা করে WBPS-এও কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকেই পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই ধরনের নিয়োগ শুরু হয়।
গোয়েন্দা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি বিশ্বজিৎ দাসের দাবি, সেই সময় থেকে WBPS-এ এমন কিছু অফিসার যোগ দিতে শুরু করেন, যাঁদের কাজকর্ম দেখে অনেকেরই সন্দেহ হয়েছিল। সাধারণ ইংরেজি চিঠিও ঠিকভাবে পড়তে বা বুঝতে না পারার ঘটনা সামনে আসত। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, তাঁরা কীভাবে পরীক্ষায় পাশ করলেন?
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী মহলের সাহায্যেই এদের অনেকেই চাকরি পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, পুলিশ বিভাগে এই ধরনের নিয়োগের পিছনে বিশেষ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এমনকি অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করার জন্যও এই পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, গোয়েন্দা বিভাগের কোনও অফিসার চাইলে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য সহজেই ভারতীয় নথিপত্র তৈরি করে দিতে পারেন। তাই এই ধরনের বেআইনি কাজের জন্যই কিছু লোককে আনা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি।
একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত সিআইডি অফিসার গৌতম ঘোষালও। তাঁর বক্তব্য, প্রশান্ত বর্মন বা শানু বক্সিদের মতোই এই নতুন WBPS অফিসারদেরও নির্দিষ্ট কাজ ছিল। প্রশাসন ও পুলিশ ব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে অসাধু কাজকর্ম বাড়ানোর জন্যই পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। তাঁর মতে, সীমান্তে অনুপ্রবেশ বা অবৈধ কারবারে সাহায্য করার পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছিল কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি নতুন সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।


