Aaj India Desk, কলকাতা : আইনশৃঙ্খলা সামলানোর সাথে থানায় থানায় শ্যামার আরাধনার আয়োজন করতে হবে পুলিশদের! উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের (Jagannath Chatterjee) এমন মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। তবে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে সুর নরম করার কোনও ইঙ্গিত নেই মন্ত্রীর। বরং সোমবার পাল্টা ঝাঁঝালো জবাব ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘যা বলেছি বেশ করেছি!’ শুধু তাই নয়, এবার থানায় কালীপুজোকে ঘিরে অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেরও ব্যাখ্যা দিতে মাঠে নামলেন তিনি।
কী বলেছিলেন মন্ত্রী?
বুধবার বীরভূমের সিউড়ি থানায় আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলার পুলিশ সুপারের উদ্দেশে থানায় থানায় কালীপুজোর আয়োজন করার কথা বলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chatterjee)। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাঙালির স্কুলে স্কুলে যেমন সরস্বতী পুজোর সংস্কৃতি রয়েছে, তেমনই থানায় কালীপুজোও পুলিশের সংস্কৃতির অংশ হওয়া উচিত। এই আয়োজনের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন খোঁজার প্রয়োজন নেই বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।
‘পুলিশ সংস্কৃতির অঙ্গ কালীপুজো’
বিতর্ক শুরু হতেই নিজের বক্তব্যের পক্ষে সওয়াল করেছেন জগন্নাথ (Jagannath Chatterjee)। তিনি বলেন, “যা বলেছি বেশ করেছি। সঙ্গত কারণ আছে বলেই বলা হয়েছে। আজন্মকাল থানায় থানায় কালীপুজো হয়ে আসছে। পুলিশ সংস্কৃতির অঙ্গ থানায় কালীপুজো করা।”
এই প্রসঙ্গে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল আমলের সরকারকেই নিশানা করেছেন জগন্নাথ। তাঁর অভিযোগ, জ্যোতি বসুর আমলে থানায় কালীপুজো নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়নি। পরবর্তী সময়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার পৃথক সংখ্যালঘু দপ্তর তৈরি করে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ভোটের স্বার্থে সংখ্যালঘু তোষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ মন্ত্রীর। তাঁর দাবি, সেই সময় থানায় কালীপুজো করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি বলেন, “গত কালীপুজোয় মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলার ছবি দেখেছে গোটা রাজ্যের মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সনাতনী সরকারের আমলে এবার পুলিশকে তো তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।” থানায় কালীপুজো নিয়ে মন্ত্রীর এই নির্দেশ ও তার ব্যাখ্যা ঘিরে বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।


