বীরভূম: বীরভূমের ‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal) কাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন নাম। এবার পুলিশের জালে অবসরপ্রাপ্ত এক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক! ধৃতের নাম রবিউল ইসলাম। একসময় বীরভূমের ডেপুটি জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। চলতি বছরেই চাকরি থেকে অবসর নিয়েছিলেন। কিন্তু অবসরের পরেও শেষরক্ষা হল না। রবিবার গভীর রাতে রামপুরহাট মহকুমার মাড়গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সোমবার তাঁকে সিউড়ি আদালতে পেশ করার কথা। আর এই গ্রেফতারিকে ঘিরেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের প্রশাসনিক মহলে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ রবিউল ইসলামের গ্রেফতারি?
পুলিশ সূত্রে খবর, পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে (Tulu Mondal) ঘিরে জমি সংক্রান্ত বিতর্কিত মামলায় গত ১৩ অক্টোবর সিউড়ি আদালতে চার্জশিট জমা দেয় তদন্তকারী সংস্থা। সেখানে মোট ১২ জনের নাম ছিল। মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডল ছাড়াও বাকি ১১ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই তালিকাতেই ছিলেন রবিউল ইসলাম। এতদিন অধরা থাকলেও শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগেও গ্রেফতার হয়েছেন ভূমি দপ্তরের আধিকারিক!
এই মামলায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকদের নাম জড়ানো অবশ্য নতুন নয়। গত ৪ অক্টোবর মহম্মদবাজার ব্লকের তৎকালীন বিএলআরও সব্যসাচী মণ্ডলকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।এবার সেই একই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি জেলা ভূমি আধিকারিকের গ্রেফতারি তদন্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
তদন্তে কি আরও বড় কোনও নাম উঠে আসবে?
টুলু মণ্ডলকে (Tulu Mondal) কেন্দ্র করে জমি সংক্রান্ত এই বিতর্কে প্রশাসনিক স্তরের একাধিক আধিকারিকের নাম উঠে আসায় শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চার্জশিটে নাম থাকা অভিযুক্তদের একে একে গ্রেফতার করছে পুলিশ। ফলে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর।
রবিউল ইসলামের গ্রেফতারির পর এই মামলায় আরও কোনও নতুন তথ্য সামনে আসে কি না, নাকি তদন্তে খুলতে চলেছে আরও কোনও অজানা অধ্যায়, এখন সেটাই দেখার।


