Aaj India Desk, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ‘I-PAC কাজ বন্ধ’ সংক্রান্ত জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিলেন মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে এবং নির্বাচনের সময় পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের খবর ছড়ানো হচ্ছে।
‘ভুয়ো খবর’ দাবি তৃণমূলের
রবিবার সকালে একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, I-PAC পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২০ দিনের জন্য কাজ স্থগিত করছে। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়। তবে দুপুরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, এই দাবি ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’। দলের বক্তব্য, I-PAC টিম রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে সক্রিয় রয়েছে এবং সব প্রচার কর্মসূচি আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে I-PAC কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভয় বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মানুষের রায় বদলানো যাবে না।
কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “ইডি তো প্রতিদিন আমাদের ওপর অভিযান চালাচ্ছে। নির্বাচনের সময়ই আবার কেন?” মমতার অভিযোগ, I-PAC-এর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে এবং রাজ্য ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “তোমাদের পঞ্চাশটা এজেন্সি আছে, আমাদের একটা।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানান, ভয় দেখিয়ে কাজ থামানো যাবে না। প্রয়োজনে I-PAC কর্মীদের তৃণমূলেই যুক্ত করে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “ওদের ভয় দেখালে ওরা আমাদের দলে যোগ দেবে। আমরা ওদের চাকরি দেব।” এই বিষয়ে তিনি অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে জানান।
সংগঠনগত প্রস্তুতির ইঙ্গিত
দলীয় সূত্রে খবর, নির্বাচনের আগে থেকেই সম্ভাব্য চাপের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। I-PAC-এর একটি বড় অংশ আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তৃণমূলের দাবি, এই কারণে কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা তাদের নির্বাচনী কাজে প্রভাব ফেলবে না।
নির্বাচনের মাঝপথে I-PAC-কে ঘিরে এই বিতর্ক রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে বিরোধীরা এই ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করার সুযোগ দেখছে, অন্যদিকে তৃণমূল এটিকে ‘পরিকল্পিত বিভ্রান্তি’ বলে দাবি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের খবর ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে, তাই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিয়ে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়েছে শাসক দল।


