Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার আশঙ্কায় ছিলেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। নির্বাচনের একেবারে দোরগোড়ায় এসে সেই বঞ্চনার প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র পেলেই ভোটের মাত্র দু’দিন আগেও বাদ পড়া ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ নিয়মে ব্যতিক্রম
সাধারণত মনোনয়ন জমার শেষ দিনের পরই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যায়। এরপর আর নতুন নাম যোগ করা যায় না। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত নিয়ম ভেঙে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আদালত জানিয়েছে, প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র পেলে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।
ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্রই শেষ কথা
আদালত স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র আবেদন করলেই হবে না। ট্রাইব্যুনাল যদি চূড়ান্তভাবে নাম অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেয়, তবেই ভোটাধিকার কার্যকর হবে। অন্যথায় ভোট দেওয়া যাবে না। রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির একটি প্যানেল গঠন করে আবেদনগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‘নৈতিক জয়’ দাবি মমতার
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) এই রায় প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে নিজের ‘নৈতিক জয়’ বলে দাবি করেছেন। কোচবিহারের দিনহাটায় এক সভার পর তিনি বলেন, “আমি নিজেই এই মামলা করেছিলাম। আজকের এই রায়ে আমি খুবই খুশি।” পাশাপাশি তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্রের পর প্রকাশিত অতিরিক্ত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভোটারদের হাতে ভোট স্লিপ পৌঁছে দিতে।
ভোটের ঠিক আগে বাদ পড়া বিপুল সংখ্যক ভোটারদের ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত কতজন ভোটাধিকার ফিরে পাবেন এবং তার প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলে কতটা পড়বে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।


