Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের বাজারে ভাতা রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিল বিজেপি। রাজ্যের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুব সাথী’ প্রকল্পকে বারবার কটাক্ষ করেছে তারা। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ছবিটা যেন কিছুটা বদলেছে। একের পর এক ভাতা প্রকল্পের ঘোষণা, তার সঙ্গে সরাসরি কার্ড বিলি, সব মিলিয়ে এবার সেই ভাতাকেই যেন হাতিয়ার করছে গেরুয়া শিবির। প্রথমে ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ডের পর এবার বিজেপির ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ (Yuvashakti Card) বিতরণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কী দেওয়া হবে এই কার্ডে ?
বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে মহিলাদের ও বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ‘যুবশক্তি ভরসা’ (Yuvashakti Card) প্রকল্পে বেকার যুবকদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে এই প্রকল্পের কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
‘যুবশক্তি ভরসা’ কার্ড (Yuvashakti Card) বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ এবং বক্সার ভিজেন্দার সিং। লিয়েন্ডার পেজ বলেন, “একটি মেট্রো শহরকে এমন হতে হবে যাতে তা মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়। না হলে মানুষ সরে যাবে। বাংলার ক্ষেত্রেও সেটাই হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাবে যুবকদের রাজ্য ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে এবং এই বিষয়ে তিনি নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। সাথে ভিজেন্দার সিং বলেন, “বাংলার মানুষ বাসি মাছ পছন্দ করেন না, বাসি সরকারও পছন্দ করেন না।”
তিনি যুব ও মহিলা ভোটারদের বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচন বিধি ভঙ্গের অভিযোগ
উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার বিজেপি ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ড প্রকাশ করে। এই প্রকল্পে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে দুই প্রকল্পের কার্ড নিয়েই অভিযোগ জানিয়েছে তৃনমূল কংগ্রেস। এই কার্ড বিতরণকে নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করে মূখ্যমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে বিজেপি ভোট কেনার চেষ্টা করেছে। তবে একইসাথে নিজেদের অনুরূপ প্রকল্পকে জনদরদী সাহায্যকারী প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরতে দ্বিধা বোধ করেননি তিনি।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ভাতা-কেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতি এবং কার্ড বিতরণকে ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে বিজেপি উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার বার্তা তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূল নির্বাচন বিধি ভঙ্গের অভিযোগে চাপ বাড়াচ্ছে। এই টানাপোড়েনের মাঝে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন বার্তায় সাড়া দেন এবং নির্বাচন কমিশন কী অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার।


