Aaj India Desk, কলকাতা : ১৫ বছর ধরে শিল্প ও কৃষি দুই ক্ষেত্রেই কার্যত স্থবির সিঙ্গুরে ফের শিল্পায়নের উদ্যোগ শুরু করল রাজ্য সরকার। সিঙ্গুরে শিল্প ফেরাতে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানালেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়। একইসঙ্গে সিঙ্গুরের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আগের রাজ্য সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রের ‘ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা’ বা BHAVYA-র আওতায় রাজ্যের দুটি শিল্প প্রকল্পের প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সিঙ্গুরে ফের টাটাদের আনার চেষ্টা
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে সিঙ্গুর নিয়ে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তাপস রায়। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে সিঙ্গুরে শিল্পও হয়নি, আবার কৃষিও আগের অবস্থায় ফেরেনি। মন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গুরে তো গত ১৫ বছরে শিল্পও হয়নি, আবার কৃষিও হয়নি। আমরা সিঙ্গুর নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চিন্তাভাবনা করছি।” টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। শুধু গাড়ি শিল্প নয়, টাটাদের অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রকেও সিঙ্গুর বা রাজ্যে আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
‘গায়ের জোরে জবরদস্তি’ নিয়ে কটাক্ষ
সিঙ্গুরে অতীতে শিল্পায়ন ঘিরে যে সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে আগের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তাপস রায়। তাঁর অভিযোগ, সিঙ্গুরে যা হয়েছিল, তা “গায়ের জোরে জবরদস্তি করে” করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সিঙ্গুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা নতুন করে খতিয়ে দেখাই রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
আগের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে তাপস রায় বলেন, “আগের সরকারের থেকে আমরা কিছুই উত্তরাধিকার সূত্রে পাইনি, না ছিল কোনও ল্যান্ড ব্যাংক, না ছিল নির্দিষ্ট শিল্পনীতি।” এমনকি প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট বা DPR তৈরির মতো কোনও সংস্থাও আগের সরকারের সময়ে ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। ফলে বর্তমান সরকারকে অনেক কিছুই নতুন করে তৈরি করতে হচ্ছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।
ধুবুলিয়া ও আসানসোলে জমি চিহ্নিত
BHAVYA-র আওতায় রাজ্যের তরফে দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। নদিয়ার ধুবুলিয়ায় ১১৮.৫ একর জমি এবং আসানসোলের ঢাকেশ্বরী এলাকায় ১৯৩.২৯ একর জমির মধ্যে ১৪৮.৬১ একর জমি প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এই দুই প্রকল্পের বিস্তারিত প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাপস রায়।
কেন্দ্রের তরফে BHAVYA প্রকল্পে প্রস্তাব পাঠানোর প্রাথমিক সময়সীমা জুলাই ও অগস্ট নির্ধারিত ছিল। পরে তা বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর করা হয়েছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী। তবে সময়সীমা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকলেও অগস্টের মধ্যেই রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে সিঙ্গুরে শিল্পায়নের পাশাপাশি রাজ্যের অন্য শিল্প প্রকল্পগুলিকেও কেন্দ্রীয় সহায়তার আওতায় আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।


