Aaj India Desk, কলকাতা: সল্টলেকে বর্তমান ম্যাগাজিনস প্রাইভেট লিমিটেড (Bartaman)-এর দখলে থাকা সরকারি লিজের জমি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলল রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতর (UDMA)। জমির নির্ধারিত ব্যবহার না করে অন্য কাজে লাগানো, অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন সংস্থাকে জায়গা ব্যবহার করতে দেওয়া এবং সরকারি জমির লিজহোল্ড স্বত্ব বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে সংস্থাকে শোকজ নোটিস (Show Cause Notice) পাঠানো হয়েছে।
২৩ জুন, মঙ্গলবার জারি হওয়া এই নোটিসে জানানো হয়েছে, ১৯৯১ সালে সল্টলেকের সেক্টর-১-এর ডিকে-০৩ প্লটে প্রায় ৩১.৩১ কাঠা জমি আধুনিক প্রিন্টিং প্রেস তৈরির জন্য বর্তমান ম্যাগাজিনসকে লিজ দেওয়া হয়। পরে ২০০৫ সালে জমি বদলের মাধ্যমে সংস্থাটি সেক্টর-২-এর ডিকে-০৩ প্লটে প্রায় ৩০.১৩ কাঠা জমি পায়। সেই জমিতে বর্তমানে একটি ১০ তলা ভবন রয়েছে।
সম্প্রতি ২০ জুন ওই ভবনে আচমকা পরিদর্শন চালায় সল্টলেক রিক্লেমেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সার্কেল। সেখানে দেখা যায়, প্রায় ৭৭ হাজার বর্গফুটের ভবনের শুধু গ্রাউন্ড ফ্লোর, প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কিছু অংশে মুদ্রণের কাজ চলছে। বাকি তলাগুলিতে হয় অন্য ধরনের কাজ হচ্ছে, নয়তো সেগুলি খালি পড়ে রয়েছে। অথচ জমিটি শুধুমাত্র সংবাদপত্র প্রকাশ ও প্রিন্টিং প্রেস চালানোর উদ্দেশ্যেই লিজ দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি নোটিসে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ১৭ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালে আরও ৩০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল বর্তমান ম্যাগাজিনস। এই ঋণের জন্য সরকারি জমির লিজহোল্ড স্বত্ব বন্ধক রাখা হয়। সংস্থার দাবি ছিল, প্রিন্টিং প্রেস আধুনিকীকরণ এবং ব্যবসার প্রয়োজনেই এই ঋণ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা কীভাবে খরচ হয়েছে, তার স্পষ্ট কোনও তথ্য সরকারের কাছে নেই। সরকারের অভিযোগ, ঋণ নেওয়ার পরও ওই সম্পত্তি অন্য উদ্দেশ্যে এবং অন্য সংস্থার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, যা লিজ চুক্তির শর্ত ভঙ্গের সামিল।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভবনের তৃতীয় তলায় ম্যাক্স লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে অফিস চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে কনকর্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং লুমিনা হেলথ সেন্টারের কাছে চতুর্থ ও সপ্তম তলার বড় অংশ ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাবও জমা পড়ে। এই বিষয়ে সরকার প্রায় ৭৫.৮ লক্ষ টাকার দাবি নোটিস পাঠালেও নির্ধারিত সময়ে সেই টাকা জমা পড়েনি বলে অভিযোগ। পরে সংস্থা জানায়, ওই ভাড়াটেরা জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। তবে সরকারের দাবি, কিছু সময় অনুমোদন ছাড়াই ওই জায়গাগুলি ব্যবহার করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে আদিত্য বিড়লা সান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে একটি লিজ চুক্তি করা হয়েছিল বলে সরকারের দাবি। অথচ সেই চুক্তির আগে সরকারের অনুমতি নেওয়া হয়নি। পরে চুক্তি বাতিল করে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি। এছাড়া তদন্তে দেখা যায়, ভবনের পঞ্চম তলায় ‘আদিত্য বিড়লা ক্যাপিটাল’ নামে একটি সংস্থা কাজ করছে। সরকারের মতে, এটিও লিজ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
নগরোন্নয়ন দফতরের দাবি, লিজ চুক্তির একাধিক ধারা যেমন- ২(৭), ২(৮), ২(৯) লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তাই বর্তমান ম্যাগাজিনসকে তিন দিনের মধ্যে সমস্ত অনিয়মের ব্যাখ্যা দিতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সন্তোষজনক জবাব না পেলে সল্টলেকের ওই জমির লিজ বাতিল করে জমির দখল ফের রাজ্য সরকার নিয়ে নিতে পারে।
নতুন সরকারের আমলে একটি সংবাদপত্র সংস্থার বিরুদ্ধে এমন কড়া পদক্ষেপকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে। এখন নজর থাকবে, বর্তমান ম্যাগাজিনস এই শোকজের কী জবাব দেয় এবং তার ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী নেয়।


