Aaj India Desk, কলকাতা : আর মাত্র চার মাস পরেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। অথচ যে কুমোরটুলির হাত ধরে সেই উৎসবের প্রাণ পায়, সেখানেই কার্যত থমকে গিয়েছিল প্রতিমা গড়ার কাজ। মাটির তীব্র সংকটে অনেক শিল্পী কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তৈরি হয়েছিল পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা। তবে সেই কঠিন সময়ে দূর দিল্লি থেকে এগিয়ে আসে সাহায্যের হাত। নতুন করে মাটির জোগান মেলায় ফের আশার আলো দেখছেন বাংলার মৃৎশিল্পীরা।
কেনো থমকে ছিল প্রতিমা নির্মান ?
কুমোরটুলির প্রতিমা তৈরির জন্য মূলত ডায়মন্ড হারবার ও উলুবেড়িয়া থেকে মাটি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত প্রায় দু’মাস ধরে ডায়মন্ড হারবার থেকে কোনও লরি মাটি না আসায় সমস্যায় পড়েন মৃৎশিল্পীরা। উলুবেড়িয়া থেকে কিছু মাটি এলেও তার পরিমাণ ছিল সীমিত। পাশাপাশি পরিবহণ ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় শিল্পীদের উদ্বেগ আরও বাড়ছিল। এর প্রভাব পড়তে শুরু করে বড় পুজো কমিটিগুলির প্রতিমা নির্মাণের কাজেও। এমনকি কিছুদিন আগে লোকসভার দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) জন্য দুর্গা প্রতিমা গড়ার অর্ডারও বাতিল করে দেন শিল্পীরা।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কাটল জট
সংকট মোকাবিলায় মৃৎশিল্পীরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হন। এরপর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ডায়মন্ড হারবার থেকে চারটি লরি মাটি এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে দুটি লরি কুমোরটুলির জন্য এবং বাকি দুটি মানিকতলার পটুয়াপাড়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
মৃৎশিল্পীদের ভাষায় মাটির পরিমাপ ‘খোপ’ হিসেবে ধরা হয়। ১৬ তাল মাটিতে এক খোপ হয়। চারটি লরির মধ্যে তিনটিতে ১২ খোপ করে এবং একটি লরিতে ৩০ খোপ মাটি রয়েছে। ফলে আপাতত প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমন্বয় সমিতির সম্পাদক বাবু পাল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতেই আরও তিনটি ১২ খোপের লরি আসার কথা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনেও অতিরিক্ত মাটি পৌঁছতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিল্পীদের পাশে দিল্লি
মাটির সংকটের সময়ে শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দিল্লিবাসী ভাস্কর্যশিল্পী নভনীল সেন। কুমোরটুলির পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তিনি আইনসম্মতভাবে প্রতিমা নির্মাণের উপযোগী কাদামাটি দান করেন।একজন শিল্পী হিসেবে তিনি এই সমস্যার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন বলেই জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বাংলার দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য যাতে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর মাটির জোগান ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করায় স্বস্তিতে কুমোরটুলির শিল্পীরা। দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সংকট কাটতে শুরু করায় এখন অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার দিকেই তাঁদের নজর রয়েছে।


