Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সোনালি গুহ (Sonali Guha) একটি পরিচিত মুখ। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। সাতগাছিয়া কেন্দ্র থেকে টানা চারবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বও সামলেছেন। স্পষ্ট কথা বলার জন্য রাজনৈতিক মহলে তাঁর আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেন সোনালি গুহ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে যাওয়ার পিছনে শেষ সিদ্ধান্ত ছিল মমতারই।
বর্তমান তৃণমূলের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশেষ করে একসময় সিপিএমের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দলের মধ্যে প্রাক্তন সিপিএম নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাওয়াকে তিনি সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর মতে, যে দল একসময় সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াইকে নিজেদের প্রধান আদর্শ হিসেবে তুলে ধরেছিল, সেই দলই ধীরে ধীরে সেই আদর্শ থেকে সরে এসেছে।
সোনালি গুহর বক্তব্য, অতীতে যাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে, তাঁদের অনেকেই এখন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এর ফলে তৃণমূলের প্রাথমিক আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই বদলে গেছে বলে তিনি মনে করেন।অন্যদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের প্রশংসাও করেন তিনি। কৃষি, শিক্ষা, পরিবহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন সোনালি। তাঁর বিশ্বাস, আগামী দিনে এই উন্নয়নের ধারা আরও বিস্তৃত হবে।
সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ভবিষ্যতে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী হবে? উত্তরে আবেগঘন সুরে সোনালি বলেন, দীর্ঘ ৩২ বছরের সম্পর্ককে তিনি কখনও অস্বীকার করতে পারবেন না। দেখা হলে তিনি সম্মান জানাবেন এবং আবেগপ্রবণও হয়ে পড়তে পারেন। তবে একইসঙ্গে তিনি মমতাকে জানাবেন যে, তাঁর মতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা সফল হতে পারেননি। শেষে সোনালি গুহ বলেন, এখন আর তাঁর মধ্যে আগের মতো রাগ বা অভিমান নেই। বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার দিকে তাকালে তাঁর মনে শুধু আক্ষেপই থেকে যায়।


