Aaj India Desk, কলকাতা : “আমাকে যেতে হবে”। ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে মাত্র তিনটি শব্দ বলেই পাশ কাটালেন শশী পাঁজা (Shashi Panja)। সম্প্রতি তাঁকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্লিনিকে দেখা যাওয়ার পর থেকেই দল বদলের জল্পনা তীব্র হয়েছিলো। সেই জল্পনার আগুনে কার্যত ঘি ঢেলে সোমবার ফের কাকলির ক্লিনিকে উপস্থিত হয়েছিলেন শশী পাঁজা। যদিও কাকলির নিজের দাবি, এই যাতায়াতের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
প্রশ্নের মুখে শশীর সংক্ষিপ্ত জবাব
সোমবার কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে আসার সময় শশী পাঁজাকে (Shashi Panja) প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছেন? জবাবে তিনি কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য না করে শুধু বলেন, “আমাকে যেতে হবে।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়াকে ঘিরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ভিত্তিহীন জল্পনার দাবি কাকলির
শশী পাঁজার (Shashi Panja) ক্লিনিকে আসা-যাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও নতুন ঘটনা নয়। তাঁর কথায়, ব্রিটেনে ইনফার্টিলিটি চিকিৎসায় আল্ট্রাসাউন্ডের প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৯৮৬-৮৭ সালে দেশে ফেরার পর তাঁর প্রথম ছাত্রদের অন্যতম ছিলেন আরজি কর হাসপাতালের তরুণ চিকিৎসক শশী পাঁজা। এরপর থেকে তাঁরা ‘রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ ফার্টিলিটি রিসার্চ’-এ একসঙ্গে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, “শশী গত ৩০-৩৫ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসে, রোগী দেখে। তাই এবার প্রথম এসেছে বা নতুন করে যোগাযোগ হয়েছে এমন দাবি ভুল। এটি নিয়ে অযথা নতুন জল্পনা তৈরি করা ঠিক নয়।” তাঁর দাবি, শশী প্রতিদিনই আল্ট্রাসাউন্ডের কাজ করতে কেন্দ্রে আসেন। ফলে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা হয়। সেই যোগাযোগকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই তিনি মনে করেন।
ছেলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দূরত্ব
২ আগস্ট ভবানীপুরে চিকিৎসক কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে শশী পাঁজাকে দেখতে পাওয়ার পরের দিনই কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, শশী পাঁজা খুব শীঘ্রই তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন। পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। তবে সেই প্রসঙ্গে কাকলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্য কেউ কী পোস্ট করেছেন, তা নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তাঁর কথায়, যার অ্যাকাউন্ট, সেই বিষয়টি তিনিই ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহিলা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং শশী পাঁজা। তাঁদের মধ্যে প্রথম তিনজন ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছেড়েছেন। ফলে কাকলির ক্লিনিকে শশী পাঁজার নিয়মিত উপস্থিতি এবং তাঁর “আমাকে যেতে হবে” মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ফের জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।


