Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর কঠিন সময়ে দলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। প্রতিদিনই তিনি প্রকাশ্যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন এবং দল ছেড়ে যাওয়া বা বিদ্রোহী অবস্থান নেওয়া নেতা-সাংসদদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন। এবার সেই আনুগত্যেরই বড় পুরস্কার পেলেন তিনি।
দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনে কুণাল ঘোষকে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সময়টা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানোর পরই এই ঘোষণা করা হয়েছে। একসময় উত্তর কলকাতার সভাপতি ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর কলকাতার অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙনের ছবি সামনে আসছে। একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদ দল ছাড়ছেন অথবা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। সেই তালিকায় এবার নাম উঠেছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তিনি দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক দায়িত্ব কুণাল ঘোষের হাতে তুলে দেন।
সুদীপের বিরুদ্ধে আগেও বহুবার সরব হয়েছেন কুণাল। এবারও তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, সুদীপ একাধিকবার রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন এবং দলের অনেক ক্ষতি করেছেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে তাপস রায়ের মতো নেতাকে গুরুত্ব না দেওয়ার পিছনেও সুদীপের ভূমিকা ছিল।
শুধু কুণাল ঘোষের দায়িত্ব বৃদ্ধি নয়, এদিন তৃণমূলের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে যুব সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্বের পাশে থাকা সৌগত রায়কে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে তৃণমূলের লোকসভা দলের উপদেষ্টা করা হয়েছে এবং জাতীয় কর্মসমিতিতেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় কর্মসমিতিতে জায়গা পেয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও।


