Aaj India Desk, পূর্ব বর্ধমান : ভোট দিয়েছিলেন এক প্রতীকে, অথচ সেই ভোটে জয়ী হওয়া বিধায়ক চলে গেলেন অন্য দলে। তাই এবার নিজের ভোট ফেরত চেয়েই ইলেকশন কমিশনকে চিঠি দিলেন এক ভোটার। এমন আজব ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে। তাঁর নির্বাচন কমিশনকে লেখা সেই চিঠি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। (TMC Defection)
পূর্ব বর্ধমানের ২৬৬ নং বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের এক ভোটার, সন্দীপ ভট্টাচার্য ও তাঁর স্ত্রী রুপালি ঘরুই ভট্টাচার্য নির্বাচন কমিশনকে একটি আবেদনপত্র পাঠান। সেই আবেদন পত্রে দাবি করা হয়, আবেদনকারী এবং তাঁর স্ত্রী ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থী নিশীথ কুমার মলিককে ভোট দিয়েছিলেন। আবেদনকারীর বক্তব্য, প্রার্থী পরবর্তীতে মমতার গঠিত তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ায় তাঁদের ভোটের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আর বহাল নেই। তাই সেই চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে, যদি ওই কেন্দ্রে পুনর্গণনা (Recounting) হয়, তাহলে তাঁদের দুটি ভোট যেন নিশীথ কুমার মলিকের প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে গণনা না করা হয়। (TMC Defection)
ভাইরাল হওয়া এই আবেদনপত্র আইনগতভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এর বাইরেও ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। দলবদল যতই সাংবিধানিক বা আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্ভব হোক না কেন, ভোটারদের একাংশ যে এখনও রাজনৈতিক দল ও তার মূল নেতৃত্বের সঙ্গে নিজেদের ভোটকে যুক্ত করে দেখেন, এই ঘটনায় তারই প্রতিফলন মিলেছে। আগামী দিনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর শিবির আদৌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিপুল রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক শহীদ দিবসের কর্মসূচিতেও দেখা গিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাস্থলেই কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য, অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের সমাবেশ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই ফাঁকা ছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মাঠের কর্মী ও সমর্থকদের আবেগ, আনুগত্য এবং গ্রহণযোগ্যতার লড়াইয়ে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বড় ফ্যাক্টর। শেষ পর্যন্ত সেই সমর্থন ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হবে, তার উত্তর দেবে আগামী নির্বাচন।


