Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : ছাত্র আন্দোলন ঘিরে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফের নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। শুক্রবার সকালে এক্স-এ (X) করা পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তরুণ প্রজন্মকে দমন করতে বলপ্রয়োগ, এফআইআর এবং সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাহুলের বার্তায় সরাসরি কেন্দ্রকে আক্রমণ
এক্স পোস্টে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহ—আপনারা ভয় দেখিয়ে Gen Z-কে চুপ করাতে পারবেন না। প্রথমে তাদের হাড় ভেঙেছেন, এখন এফআইআর করছেন এবং তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছেন। আপনারা ভারতের অতীত। ভারতের ভবিষ্যতের সঙ্গে কেমন আচরণ করছেন, সে বিষয়ে সতর্ক হোন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে।
বিল পাস, কিন্তু বিরোধীদের আপত্তি অন্য ইস্যুতে
বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন সংক্রান্ত বিল পাস হয়। তবে কংগ্রেস-সহ অধিকাংশ বিরোধী দল ভোটাভুটির আগে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে। বিরোধীদের দাবি, ছাত্রদের সংসদ অভিযানে পুলিশের বলপ্রয়োগ ও নির্যাতনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য ছাড়া বিল পাসের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। তাদের দাবি, দিল্লি পুলিশ যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে, তাই বিষয়টি নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।
দিল্লি পুলিশের রিপোর্টে বলপ্রয়োগের সাফাই
ছাত্রদের সংসদ অভিযান নিয়ে দিল্লি পুলিশ একটি রিপোর্টে জানিয়েছে, ওই কর্মসূচিতে প্রায় ২,০০০ এমন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, অপহরণ-সহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ করা হয় বলে পুলিশের দাবি। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সিআরপিএফের মহাপরিচালক জ্ঞানেন্দ্র প্রসাদ সিং বাহিনীকে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের বার্তা দেন। প্রয়োজনে তার দায়িত্ব তিনি নেবেন বলেও মন্তব্য করেন।
অমিত শাহের বক্তব্য ঘিরে বিরোধীদের চাপ
বৃহস্পতিবার অমিত শাহ সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকলেও লোকসভা বা রাজ্যসভায় এই ইস্যুতে কোনও বক্তব্য দেননি। এরপরই বিরোধীরা সংসদে বিক্ষোভ দেখায় এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি তোলে। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে।
এর পাশাপাশি ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিও আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন বিরোধী দলের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিও (CJP) জানিয়েছে, ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে দলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে।


