Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : তিনতলা বাড়ি, একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা, আবার অন্ত্যোদয় রেশন কার্ডও (Antyodaya Ration Card)। শুনে অবাক লাগতে পারে, কিন্তু এমনই অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এলাকায় বসবাসকারী এক পরিবারকে ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, যেখানে বহু প্রকৃত দরিদ্র এখনও বিভিন্ন সরকারি সুবিধার অপেক্ষায়, সেখানে তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল একটি পরিবার নিয়মিত একাধিক প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা যাচাই এবং সরকারি প্রকল্প বণ্টন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কোন কোন সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ?
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবারের মহিলা সদস্যরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পান। একইসঙ্গে স্বামী ও স্ত্রী দু’জনই বেসরকারি চাকরি করলেও তারা বেকার ভাতার সুবিধাভোগী। এছাড়াও পরিবারের এক সদস্য বার্ধক্য ভাতা পান।।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সব মিলিয়ে পরিবারটি প্রতি মাসে প্রায় ৯ হাজার টাকার সরকারি আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। এর পাশাপাশি অন্ত্যোদয় রেশন কার্ডের (Antyodaya Ration Card) আওতায় স্বল্প মূল্যে খাদ্যসামগ্রীও গ্রহণ করে তারা।
যোগ্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৃত আর্থিকভাবে দুর্বল বহু পরিবার এখনও বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন, অথচ তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল কিছু পরিবার এভাবে একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। সুবিধাভোগীদের তথ্য পুনরায় যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে নিয়মিত সমীক্ষা ও নথি যাচাই প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, যদি প্রকৃত আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তি বা পরিবার ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অন্ত্যোদয় রেশন কার্ড (Antyodaya Ration Card), বেকার ভাতা কিংবা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকে, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সরকারি কোষাগারের উপর। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার এই নিয়ে ঘোষণা করেছে। একই কারণে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পেও এত কড়াকড়ি করা হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও এহেন পরিস্থিতি সরকারি ব্যবস্থার উপরেই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।


