কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠন করল রাজ্য সরকার। বুধবার অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বহুদিন ধরে নতুন বেতন কমিশনের অপেক্ষায় থাকা রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে ভারতের অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের প্রাক্তন সচিব অতনু চক্রবর্তীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ (CPR)-এর সিনিয়র ফেলো ড. পার্থ মুখোপাধ্যায় এবং আইআইএম কলকাতার অর্থনীতির অধ্যাপক ড. পার্থ প্রতিম পাল। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের সচিব দেবী প্রসাদ করণম (আইএএস)।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিশন শুধু বেতন ও মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নয়, বিভিন্ন বিশেষ ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুযোগ-সুবিধাও পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি বর্তমান কর্মীদের নতুন বেতন কাঠামোয় প্রাথমিক বেতন নির্ধারণ এবং বিদ্যমান পেনশনভোগীদের পেনশন সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কেও সুপারিশ করবে (7th Pay Commission) ।
এছাড়াও পদোন্নতির নীতি, কর্মদক্ষতা, জবাবদিহি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য (ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স) নিয়েও সুপারিশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র বেতন বৃদ্ধি নয়, সরকারি কর্মীদের সামগ্রিক পরিষেবা কাঠামো পর্যালোচনার দায়িত্বও থাকবে এই কমিশনের ওপর।সরকার জানিয়েছে, সুপারিশ তৈরির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামো, অন্যান্য রাজ্যের বেতন ব্যবস্থা, পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক সক্ষমতা এবং অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th Central Pay Commission) নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তও বিবেচনায় রাখা হবে।
কমিশনের সদর দফতর হবে কলকাতায়। তবে প্রয়োজনে রাজ্যের অন্যত্র কিংবা দিল্লিতেও বৈঠক করতে পারবে কমিশন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে কমিশনকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী রিপোর্টও জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই কমিশনের (7th Pay Commission) আওতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থা, বোর্ড, কর্পোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পুরসভা, পঞ্চায়েত, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এবং বিজ্ঞপ্তির সংযোজনে উল্লেখিত একাধিক সংস্থার কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তবে অল ইন্ডিয়া সার্ভিস (AIS), পশ্চিমবঙ্গ বিচার বিভাগীয় পরিষেবা এবং যাঁদের ক্ষেত্রে ইউজিসি (UGC), এআইসিটিই (AICTE) বা আইসিএআর (ICAR)-এর বেতন কাঠামো প্রযোজ্য, তাঁরা এই কমিশনের আওতার বাইরে থাকবেন।


