Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে সাংসদদের সম্ভাব্য বিদ্রোহী ব্লকের গঠন নিয়ে। দিল্লিতে বিজেপি নেতার বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandopadhyay) যোগদান করার পর রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হলো আরও এক নাম।
শনিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Sudip Bandopadhyay) দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ও। বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তৃনমূল সাংসদদের একাংশ। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ১৯ জন সাংসদ দলের মধ্যেই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
এবার সেই জল্পনায় এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে সৌগত রায়ের নাম। প্রবীণ এই সাংসদ ভবিষ্যতে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবারই সৌগত রায় স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে দলের বর্তমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। লোকসভা ও বিধানসভা স্তরে একাধিক নেতা দল ছাড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে দলের এই অবস্থার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এককভাবে দায়ী করার বিরোধিতা করে সৌগত বলেন, যাঁরা আজ তাঁর সমালোচনা করছেন, তাঁরাই নির্বাচনের আগে অভিষেকের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছিলেন। তাই দলের সমস্ত ব্যর্থতার দায় এক ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয় বলেই তাঁর মত।
একইসঙ্গে বিদ্রোহী শিবিরের সমালোচনা করে সৌগত রায় বলেছিলেন, নেতৃত্ব নিয়ে যদি প্রকৃত অসন্তোষ থেকে থাকে, তাহলে তা দলের অভ্যন্তরে আলোচনার মাধ্যমেই তুলে ধরা উচিত ছিল। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর হঠাৎ প্রকাশ্যে এসে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হওয়া রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানিতার ইঙ্গিত দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগে যখন এই অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে আসেনি, তাহলে নির্বাচনী পরাজয়ের পরেই হঠাৎ এত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে কেন তা নিয়েও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।
প্রশ্ন উঠছে, এই বক্তব্য রাখার পরেও কি তবে নিজের অবস্থান বদল করবেন সৌগত রায়? তৃনমূলের বিশ্বস্ত সৈনিকদের মধ্যে সায়নী ঘোষ, দেব, জুন মালিয়ার মতো সাংসদরাও এতদিন ‘দিদির পাশে আছি’ বললেও প্রকাশিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সই সহ চিঠি প্রকাশিত হতেই দেখা গিয়েছিল, তারাও ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। ফলে কবে কোথায় কিভাবে এবং কে এই দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাচ্ছেন তা নিয়ে রীতিমতো ধন্দ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandopadhyay) এবং সৌগত রায়কে নিয়ে এই জল্পনা কি পরিণতি পায়, এবার সেদিকেই থাকবে নজর।


