কলকাতা: ৪ মে ফলাফলের পর সর্বপ্রথম দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন! শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাসপেন্ডও হয়েছেন দলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত (Riju Dutta)। এবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা ঋজু দত্ত (Riju Dutta)। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) ‘পিতৃতুল্য’ বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং সেই সূত্র ধরেই কল্যাণও ছেলের মতো তাঁকে ক্ষমা করে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি ঋজু। তিনি বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রয়োজন নেই, বরং তৃণমূল কংগ্রেসেরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রয়োজন।” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, বর্তমানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানে বড় আইনজীবীদের পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ নেতারও প্রয়োজন হতে পারে।
X link: https://x.com/ians_india/status/2065770277750157683
বলা বাহুল্য, সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি মামলায় তাঁর হয়ে সওয়াল করার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান কল্যাণ। এরপর প্রকাশ্যেই তিনি অভিষেককে নিশানা করে মন্তব্য করেছিলেন, “ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে, তারপরেও ঔদ্ধত্য যায়নি।” শুধু তাই নয়, ‘মমতাদিকে বেছে নিতে হবে, দলে কে থাকবে, আমি না অভিষেক’, বলেছিলেন কল্যাণ (Kalyan Banerjee) । এরপরই অভিষেকের বয়ান আসে, ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় মানুষ করেছেন, ছোট থেকে বড় হতে দেখেছেন। তাঁর অধিকার আছে আমাকে নিয়ে চারটে কটূ কথা বলার’। এই ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই অভিষেককে নিজের ছেলের মত, ‘ছেলের সব ভুল বাবা ক্ষমা করে’, বলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই ১৯ জন সাংসদ পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারা চাইছে আরও একজন বর্ষীয়ান হেভিওয়েট সাংসদকে ভাঙাতে। এই পরিস্থিতিতে কল্যাণকে হারানো কোনোমতেই সইতে পারবেন না মমতা। তবে কি সেইকারণেই এই মিটমাট? উঠছে প্রশ্ন।


