Aaj India Desk, কলকাতা : বর্ধমান থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) এক সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেপ্তার এবং তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করার অভিযোগ সামনে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে দাবি করেছেন, বাম আমলে পশ্চিমবঙ্গ ছিল ‘সেফ প্যাসেজ’, আর তৃণমূল আমলে তা ‘সেফ হোম’-এ পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যে মৌলবাদ ও জঙ্গি কার্যকলাপ প্রসারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
‘সেফ প্যাসেজ’ থেকে ‘সেফ হোম’
জইশ জঙ্গি গ্রেপ্তার এবং তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, বামফ্রন্টের আমলে পশ্চিমবঙ্গ জঙ্গিদের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’ ছিল, কিন্তু তৃণমূল সরকারের সময়ে তা ‘সেফ হোম’-এ পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নজরদারি জোরদার হওয়ায় অভিযুক্তদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) খাগড়াগড় বিস্ফোরণ, পশ্চিমবঙ্গে আইএস জঙ্গি গ্রেপ্তার এবং ২৬/১১ মুম্বই হামলার তদন্তে কলকাতার মৌলালির নাম উঠে আসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, অতীতে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত জঙ্গিদের যাতায়াতের পথ হিসেবে কলকাতা ও হাওড়ার নাম উঠে এসেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
‘বর্ধমান নয়, গোটা রাজ্যেই ছড়িয়েছে নেটওয়ার্ক’
বর্ধমান জঙ্গি কার্যকলাপের কেন্দ্র হয়ে উঠছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি নেতা বলেন, বিষয়টি শুধু বর্ধমানে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর দাবি, কোচবিহার-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও জঙ্গি মডিউলের অস্তিত্ব সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সতর্কবার্তার পরও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কেন মুখ্যমন্ত্রী টার্গেট?
মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করার অভিযোগ প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, জিহাদি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের কারণেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করা হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং মৌলবাদকে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তোলেন।
সোনা উদ্ধারের প্রসঙ্গেও কটাক্ষ
ধৃত জঙ্গির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা সম্পত্তি, সোনা ও গয়না উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েক বছরে কিছু মানুষের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বর্ধমানে জইশ-ই-মহম্মদের সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেফতার এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগের জবাবে শাসকদল কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


