Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর অন্যতম বড় সামাজিক প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar)। এই প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের মাসে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বিজেপি সরকার। ১ লা জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়ে দেন, যতদিন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু হচ্ছে না ততদিন আপাতত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই চলবে। তবে আজ থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সরকারি পোর্টাল চালু করে আবেদনপত্র বিতরণ ও নাম নথিভুক্তকরণের কাজ শুরু হবে। এই নাম নথিভুক্তকরণ শেষ হওয়ার পর শুরু হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, যাঁরা আগে থেকেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। তাঁরা সরাসরি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের আওতায় চলে আসবেন। তবে যাঁদের নাম আগে বাদ পড়েছিল বা নতুন করে আবেদন করতে চান, তাঁদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন ভোটার তালিকার ভিত্তিতে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করা হবে। এছাড়াও, যাঁদের কিছু নথি ট্রাইবুনালে আটকে রয়েছে, মানবিক কারণে তাঁদের ক্ষেত্রেও সুবিধা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করবেন?
সরকার একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল চালু করেছে। আবেদন করতে হবে অনলাইনে। অফিসিয়াল পোর্টাল: annapurnabhandarwb.in
অনলাইনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্যাম্প থেকেও আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
অনলাইনে আবেদন করার ধাপ
১) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন
২) ‘Annapurna Bhandar’ বিভাগে ক্লিক করবেন
৩) আবেদনপত্র ডাউনলোড লিঙ্কে ক্লিক করবেন
৪) ফর্মটি প্রিন্ট করতে হবে
৫) প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে
কোন কোন নথি লাগবে?
আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে—
- বৈধ রেশন কার্ড
- আধার কার্ডের কপি
- ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের কপি
- আধারের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় মোবাইল নম্বর
- আয় শংসাপত্র
- বাসস্থানের প্রমাণপত্র
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক। DBT পদ্ধতিতে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে।
কীভাবে হবে যাচাই?
গ্রামীণ এলাকায় আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকবে বিডিও অফিসের উপর। শহরাঞ্চলে এই কাজ দেখবেন এসডিওরা। কলকাতা পুর এলাকায় সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে কলকাতা পুরসভা। যাচাইয়ের পর যোগ্য আবেদনকারীদের তালিকা জেলা শাসকের কাছে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর তা অনলাইনে আপলোড করা হবে।
উল্লেখ্য, সরকারি সূত্রে সতর্ক করা হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই আবেদনপত্র ডাউনলোড করতে হবে। ভুয়ো ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ার লিঙ্ক থেকে ফর্ম ডাউনলোড না করাই নিরাপদ। সাধারণত সরকারি ওয়েবসাইটের ডোমেন “.gov.in” বা “wb.gov.in” দিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকেই সরাসরি ফর্ম ডাউনলোড করার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।


