Aaj India Desk,কলকাতা : একসময় কলকাতায় লিওনেল মেসির মূর্তি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির রোল উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, মূর্তির সঙ্গে মেসির মুখের মিল খুঁজে পাওয়াই দায়। সেই ঘটনায় তৎকালীন সরকারকে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। সময় বদলেছে, সরকার বদলেছে। কিন্তু বিতর্ক যেন একই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে!
এবার বিজেপি সরকারের আমলে মহানায়ক উত্তম কুমারের মূর্তি ঘিরে উঠেছে নতুন প্রশ্ন। বহু মানুষের দাবি, মূর্তির মুখাবয়বের সঙ্গে বাস্তবের উত্তম কুমারের কোনও স্পষ্ট মিলই নেই। সামাজিক মাধ্যমে কেউ বলছেন, “এ কি সত্যিই মহানায়ক?” আবার কেউ কটাক্ষ করে লিখছেন, “নামটা না জানালে চিনতেই পারতাম না!”
২০২৫ সালে লেকটাউনে লিওনেল মেসির ৭০ ফুট উঁচু লোহা ও ফাইবারগ্লাসের মূর্তি তৈরি করতে প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল। সেই মূর্তির মুখাবয়ব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল সেই সময়। এবার ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাজ্যে সরকারের উদ্যোগে মহানায়ক উত্তম কুমারের নতুন আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের পরও একই প্রশ্ন উঠছে। অনেকের দাবি, মূর্তির সঙ্গে মহানায়কের মুখের মিল নেই।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে সরকারি অর্থ খরচ নিয়ে। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে যদি এমন একটি মূর্তি তৈরি হয়, যা দেখে আসল ব্যক্তিকেই চেনা যায় না, তাহলে সেই খরচের যৌক্তিকতা কোথায়? শিল্পের স্বাধীনতা অবশ্যই আছে, কিন্তু জনসাধারণের আবেগ জড়িয়ে থাকা ব্যক্তিত্বদের মূর্তি নির্মাণে ন্যূনতম বাস্তবসম্মত সাদৃশ্য কি থাকা উচিত নয়?
একাংশের বক্তব্য, সরকার যেই হোক তৃণমূল হোক বা বিজেপি ভুল হলে প্রশ্ন একইভাবে উঠবে। মেসির মূর্তিতে যেমন বিতর্ক হয়েছিল, তেমনই আজ উত্তম কুমারের মূর্তিও সেই একই প্রশ্নের মুখে। তাহলে কি সরকার বদলালেও দায়িত্বজ্ঞান বদলায় না?
অনেকেই দাবি তুলছেন, এই ধরনের প্রকল্পে শিল্পী নির্বাচন, নকশা অনুমোদন এবং গুণমান যাচাইয়ের জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। কারণ একটি মূর্তি শুধু পাথর বা ধাতুর কাঠামো নয়, সেটি কোটি মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও শ্রদ্ধার প্রতীক।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই মানুষের হৃদয়ে যাঁরা কিংবদন্তি, তাঁদের সম্মান জানাতে গিয়ে যদি তাঁদের চেহারাটাই হারিয়ে যায়, তাহলে সেটা কি সত্যিই শ্রদ্ধাঞ্জলি, নাকি আবারও ট্যাক্সের টাকায় এক নতুন বিতর্কের জন্ম?


