নয়াদিল্লি: ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। কিন্তু তাতে কি ফিরে আসবে ১৮ বছরের আকাঙ্ক্ষা? সেই প্রশ্নই আজ বারবার তুলছেন তাঁর মা নীলম চতুর্বেদী। চোখের জল সামলে তাঁর একটাই দাবি, “ইস্তফা নয়, NEET প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কঠোরতম শাস্তি হোক।”
মধ্যপ্রদেশের একটি সাধারণ পরিবারের মেয়ে আকাঙ্ক্ষা। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে যেতে গোটা পরিবার মধ্যপ্রদেশ ছেড়ে চলে আসে নাগপুরে। মেয়ের পড়াশোনার জন্য নতুন শহরে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন বাবা-মা। কোচিং, পড়াশোনা, অগণিত ত্যাগ, সবকিছুর একটাই লক্ষ্য ছিল, একদিন সাদা অ্যাপ্রন গায়ে জড়াবে তাঁদের একমাত্র মেয়ে।
৩ মে NEET পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরেছিল আত্মবিশ্বাসী আকাঙ্ক্ষা। পরিবারের কাছে বলেছিল, ৬৫০-রও বেশি নম্বর পাওয়ার আশা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের জেরে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার খবর যেন মুহূর্তে ভেঙে দেয় তার সমস্ত স্বপ্ন।
পরিবারের দাবি, সেই ঘটনার পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে মেয়েটি। কথা বলা প্রায় বন্ধ করে দেয়। ঠিকমতো খেত না, কারও সঙ্গে মিশত না। নিজের মধ্যেই গুটিয়ে যেতে থাকে। অবশেষে ২০ মে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় ১৮ বছরের আকাঙ্ক্ষা।
মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটে সে লিখেছিল, “তোমাদের বিশ্বাস ছিল আমি ডাক্তার হব। কিন্তু আবার NEET দেওয়ার সাহস করতে পারলাম না। প্রথমবার ভালো নম্বর পেতাম। দ্বিতীয়বার কী হবে, জানি না। মা, বাবা… আমি খুব দুঃখিত।” সেই চিঠির প্রতিটি শব্দ আজও তাড়া করে বেড়ায় চতুর্বেদী পরিবারকে। একমাত্র মেয়েকে হারানোর শোক সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন আকাঙ্ক্ষার বাবা। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। সংসারের প্রতিটি কোণ আজ মেয়ের স্মৃতিতে ভরা।
নীলম চতুর্বেদীর কণ্ঠে এখন শুধুই হাহাকার। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে থাকলে সব সামলে নিত। এখন আমাদের দেখবে কে? ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন, কিন্তু তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। ইস্তফা দিলেই কি সব দায় শেষ হয়ে যায়? যারা প্রশ্নফাঁস করেছে, তাদের এমন শাস্তি হোক যাতে আর কোনও পরিবারের কোল খালি না হয়।”
উল্লেখ্য, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪-এ কঠোর শাস্তির বিধান এনেছে। এই আইনে প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের কোনও বিধান নেই।
কিন্তু আইনের ধারা বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরেও চতুর্বেদী পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় সত্য একটাই, একটি স্বপ্ন আর কোনও দিন ফিরে আসবে না। একটি খালি ঘর, কিছু অসমাপ্ত বই আর বাবা-মায়ের বুকভরা শূন্যতা আজও অপেক্ষা করে সেই মেয়েটির জন্য, যে ডাক্তার হয়ে মানুষের জীবন বাঁচানোর স্বপ্ন দেখেছিল।


