28.3 C
Kolkata
Sunday, July 26, 2026
spot_img

পঞ্চায়েত আইনে বড় সংশোধন! নতুন আইনে জেলাশাসকের হাতে বিশেষ ক্ষমতা

Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় (Panchayati Raj System) রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানো এবং প্রশাসনিক কাজ যাতে কোনওভাবেই বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন (West Bengal Panchayat Act), ১৯৭৩’-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে। নতুন নিয়মে কোনও পঞ্চায়েতে গণপদত্যাগ, অনাস্থা বা দীর্ঘদিন প্রশাসনিক অচলাবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে জেলাশাসকের (DM) ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ একসঙ্গে পদত্যাগ করলে জেলাশাসক প্রয়োজন হলে সেখানে একজন প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবেন। তবে প্রশাসক নিয়োগই প্রথম পদক্ষেপ নয়। তার আগে প্রধান, উপ-প্রধান এবং পঞ্চায়েত বোর্ডকে স্বাভাবিকভাবে কাজ চালু করার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সুযোগ দিতে হবে। সব চেষ্টা ব্যর্থ হলেই প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

প্রধান ও উপ-প্রধানের পদত্যাগ বা তাঁদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হলে সেই প্রক্রিয়াও আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নিয়ম মেনে পদত্যাগ বা অনাস্থা কার্যকর হলে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁদের পদ থেকে সরানো হবে। এর ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে পঞ্চায়েতের কাজ দীর্ঘদিন আটকে থাকার সুযোগ কমবে।

এই সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানের কিছু আর্থিক ক্ষমতাও কমানো হয়েছে। আগে পঞ্চায়েতের চেকে নির্বাহী সহায়ক (এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট)-এর সঙ্গে প্রধানেরও স্বাক্ষর প্রয়োজন হত। এখন সেই নিয়ম তুলে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পঞ্চায়েতের আর্থিক লেনদেনের হিসাব নির্বাহী সহায়ক সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েতের সভায় উপস্থাপন করবেন।

এছাড়া নতুন আইনে বলা হয়েছে, প্রধান বা উপ-প্রধান যদি টানা ১৫ দিন পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনে জেলাশাসক প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিতে পারবেন।

গ্রাম সভার বৈঠক পরিচালনার নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। এতদিন প্রধানের উপস্থিতি কার্যত বাধ্যতামূলক ছিল। এখন থেকে প্রধান না থাকলেও গ্রাম পঞ্চায়েতের যে কোনও সদস্যকে সভাপতি নির্বাচন করে গ্রাম সভার বৈঠক পরিচালনা করা যাবে। এর ফলে গ্রাম সভার কাজ আরও সহজ ও নিয়মিতভাবে চালানো সম্ভব হবে। এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হল পঞ্চায়েতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব কমিয়ে প্রশাসনিক কাজ সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন