Aaj India Desk, বাঁকুড়া : কয়েক মাস আগেই জেন জির প্রতিবাদ আন্দোলনের চোটে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল দেশ। এবার ধীরে ধীরে পথে নামতে শুরু করেছে তার পরের প্রজন্ম জেন আলফারাও। বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরেও এবার হোস্টেলের খাবারের মান, সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং হোস্টেল আধিকারিকদের একাংশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে পথে নামল একলব্য মডেল স্কুলের আবাসিক পড়ুয়ারা। (Student Protest) শনিবার মুকুটমণিপুরের গোড়াবাড়ি রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখায় তারা। প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তা অবরোধ করে অবিলম্বে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বদলের দাবিও জানায় পড়ুয়ারা।
কী কী কারণে আন্দোলনের পথে পড়ুয়ারা ?
স্কুলের পৃথক দু’টি হস্টেলে প্রায় সাড়ে ৪০০ আবাসিক পড়ুয়া থাকে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, হস্টেলের রান্নাঘরে তাঁদের জন্য যে খাবার রান্না করা হয়, তার মান অত্যন্ত খারাপ। তাঁদের দাবি, একই রান্নাঘরে আবাসিক পড়ুয়া ও শিক্ষকদের জন্য পৃথক খাবার তৈরি করা হয়। যদিও আবাসিক পড়ুয়াদের নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ মানতে চাননি হস্টেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।
খাবারের পাশাপাশি হস্টেল আধিকারিকদের একাংশের আচরণ নিয়েও অভিযোগ তুলেছে পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন কারণে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। এই সব অভিযোগের দ্রুত সমাধানের দাবিতেই শনিবার বিক্ষোভে নামে আবাসিক পড়ুয়ারা। (Student Protest)
প্রধান শিক্ষক বদলের দাবি
বিক্ষোভে পড়ুয়াদের অন্যতম দাবি ছিল স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃষেন্দু মল্লিককে বদল করা। প্ল্যাকার্ড হাতে মুকুটমণিপুর-গোড়াবাড়ি রাস্তায় বসে পড়ে তারা। পড়ুয়াদের এই আন্দোলনে অভিভাবকরাও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এক অভিভাবকের কথায়, “এই ছোট ছোট বাচ্চাদের খাবারের জন্য, শিক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হচ্ছে। প্রশাসন সঠিক ব্যবস্থা নিক।”
স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কী?
অভিযোগ প্রসঙ্গে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃষেন্দু মল্লিক বলেন, “গোটা বিষয়টি পুরোপুরি টিচার ইনচার্জকে লিখিত আকারে জানাতে হবে।” অন্যদিকে, হস্টেলের খাবারের মান নিয়ে পড়ুয়াদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা। (Student Protest)
প্রায় সাড়ে ৪০০ আবাসিক পড়ুয়া থাকা একটি সরকারি আবাসিক স্কুলে খাবার ও পরিষেবা নিয়ে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পড়ুয়াদের অভিযোগ কতটা সত্য, তা খতিয়ে দেখে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই নজর।


