Aaj India Desk, কলকাতা: নন্দীগ্রাম (Nandigram) ও সিঙ্গুরের (Singur) জমি আন্দোলন একসময় বাংলার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এই আন্দোলনকে সামনে রেখেই দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল (TMC)। সেই আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাশে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও তাঁর বাবা শিশির অধিকারীও।
নন্দীগ্রামের সেই আন্দোলনের প্রায় দুই দশক পর ফের জমি আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করলেন কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। তবে তাঁর বক্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। কারণ, দেশের ভূমি আন্দোলনের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম বলতে গিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেননি। শিশির অধিকারী বলেন, ভারতের ভূমি আন্দোলনের ক্ষেত্রে তাঁর মতে প্রথম নাম সিপিএম নেতা ইএমএস নাম্বুদিরিপাদের। দ্বিতীয় নাম হরেকৃষ্ণ কোঙারের। আর তৃতীয় নাম তাঁর ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর। ইতিহাসে এই তিনটি নামই ধারাবাহিকভাবে লেখা থাকবে বলেও দাবি করেন তিনি।
জমি আন্দোলনের প্রসঙ্গ ছাড়াও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন শিশির অধিকারী। সেখানে কংগ্রেসকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, কংগ্রেসকে সমর্থন করে কোনও লাভ হবে না। তাঁর কথায়, বাংলায় কংগ্রেসের অস্তিত্ব প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে এবং যা সামান্য বাকি রয়েছে, সেটুকুও আর থাকবে না।
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় রাহুল গান্ধীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। শিশির অধিকারীর দাবি, বাংলায় কংগ্রেসের শেষ পর্ব চলছে এবং সেই শেষ সময়টুকু ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও নিজের মত জানান প্রাক্তন সাংসদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীক নিয়ে ফুটবলের উদাহরণ টেনে তাঁর মন্তব্য, শুরুতেই ফাউল হয়ে গিয়েছে এবং লাল কার্ডের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত মাঠের বাইরে চলে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে বিজেপি প্রার্থীর বড় জয়ের আশা প্রকাশ করেন শিশির অধিকারী।
তাঁর কথায়, রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনার কথা ভাবাও বাস্তবসম্মত নয়। শিশির অধিকারীর এই বক্তব্য ঘিরে বিরোধীদের প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। দমদমের সাংসদ সৌগত রায়ের দাবি, বয়সের কারণে শিশির অধিকারীর স্মৃতিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং পুত্রের প্রতি আবেগ থেকেই তিনি শুভেন্দুর নামকে এতটা গুরুত্ব দিয়েছেন।
সৌগত রায়ের বক্তব্য, নন্দীগ্রামের আন্দোলন যে জায়গায় পৌঁছেছিল, তার পিছনে মূল ভূমিকা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিশেষ করে ১৪ জনের মৃত্যুর পরের দিন মমতা সিপিএমের বাধা পেরিয়ে নন্দীগ্রামে পৌঁছেছিলেন বলেই আন্দোলন আরও বড় আকার নেয় বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে শিশির ও শুভেন্দু অধিকারীরও পরবর্তী সময়ে ভূমিকা ছিল বলে স্বীকার করেন সৌগত।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ শিশির অধিকারীর বক্তব্যকে ‘সন্তানস্নেহ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, একজন বাবা তাঁর সন্তানকে নিয়ে এমন কথা বলতেই পারেন এবং সেই আবেগকে সম্মান করা উচিত। তবে হরেকৃষ্ণ কোঙারের জমি আন্দোলনের সঙ্গে নন্দীগ্রামের আন্দোলনের তুলনা টেনে তিনি দুটির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শতরূপ ঘোষের দাবি, হরেকৃষ্ণ কোঙারের নেতৃত্বে হওয়া জমি আন্দোলনের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন এসেছিল। অন্যদিকে, শিশির-শুভেন্দু ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হওয়া জমি আন্দোলনের ফল নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।


