27 C
Kolkata
Sunday, May 10, 2026
spot_img

করোনার পর হ্যানটাভাইরাস, আবার কি হবে লকডাউন

Aaj India desk: কখনো গরম কখনো বৃষ্টি, এর মধ্যেই লেগে রয়েছে সর্দিকাশি। ভাবছেন সিজনাল ফ্লু?ভুলেও অবহেলা করবেন না। তাহলেই কিন্তু আবার হতে পারে লকডাউন। ৫ বছর আগে করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব দেখেছে লকডাউন,প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয় এর জন্য। সেই ক্ষতি থেকে আজও সামলে উঠতে পারেনি বিশ্ব। আবারও পৃথিবীতে নতুন ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। এর নাম হ্যান্টাভাইরাস (Hantavirus)।

হান্টাভাইরাস আসলে কী?

এটি অনেকগুলি ভাইরাস মিলে তৈরি একটি রোগ, যা ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মল থেকে ছড়ায়। সাধারণত নোংরা জায়গা পরিষ্কার করার সময় বা ঝাড়ু দেওয়ার সময় যখন ধুলোর সঙ্গে এই ভাইরাসের কণাগুলি নিশ্বাস নেওয়ার সময়ে নাক-মুখের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

কিভাবে এল এই ভাইরাস? 

আর্জেন্টিনা থেকে এমভি হন্ডিয়াস নামে একটি জাহাজ ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করেছিল। প্রাথমিকভাবে ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু এই জাহাজে ছিলেন। ১১ এপ্রিল, একজন ডাচ যাত্রী ওই জাহাজে মারা যান, মৃত্যুর কারণ অজানা ছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ পর,২৪ এপ্রিল তার স্ত্রীর সাথে সেন্ট হেলেনায় জাহাজ থেকে তার মৃতদেহ নামানো হয়।এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায় তিনি হান্টাভাইরাসে (Hantavirus)আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর আরও তিনজন ওই জাহাজে একই রোগে মারা যায়।

এই রোগের উপসর্গ কি? 

প্রাথমিক পর্যায় (১-৫ দিন): প্রথমে হালকা জ্বর, শরীরে কাঁপুনি, মাথাব্যথা এবং মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা (বিশেষ করে পিঠ ও পায়ে) হয়। অনেক ক্ষেত্রে ক্লান্তি ও বমিভাবও দেখা দিতে পারে। এই পর্যায়ে অনেকেই একে সাধারণ ফ্লু বলে ভুল করেন।

ভয়ঙ্কর পর্যায় (৩-৭ দিন): এখান থেকেই বিপদ শুরু। চিকিৎসকদের মতে, একে বলা হয় ‘হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’। এই পর্যায়ে রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, বুকে চাপ অনুভব করতে পারেন আক্রান্ত ব্যক্তি। এ ছাড়া হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। ফুসফুসে জল জমতে শুরু করলে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। তখন রোগীকে দ্রুত আইসিইউ-তে স্থানান্তর করার প্রয়োজন হয়।হান্টাভাইরাস(Hantavirus) শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এতটাই উত্তেজিত করে তোলে যে, রক্তনালীগুলো থেকে তরল চুঁইয়ে ফুসফুসে জমা হতে থাকে। ফলে হঠাৎ করে ‘রেসপিরেটরি ফেলিওর’ বা শ্বাসযন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতেই পারে।

প্রতিরোধের উপায় কী?

হান্টাভাইরাসের (Hantavirus)কোনও নির্দিষ্ট টিকা বা ওষুধ নেই। তাই সাবধানতাই একমাত্র পথ। তবে প্রাথমিক কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। যেমন: নোংরা জায়গা পরিষ্কারের সময় মাস্ক এবং গ্লাভস ব্যবহার করা। ইঁদুরের মল বা মূত্র রয়েছে এমন জায়গা পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই মুখে মাস্ক পরা। সম্ভব হলে জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করা। বাড়িতে যদি ইঁদুরের উপদ্রব থাকে, সে ক্ষেত্রে খাবার কোনও ভাবেই খুলে রাখা যাবে না। প্রয়োজনে ইঁদুর মারার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে এখনই এই নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন