পশ্চিম বর্ধমান: বীরভূমে বালি ও পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ডেরায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তারই মধ্যে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে একটি পরিত্যক্ত ইটভাঁটা থেকে উদ্ধার হল ৪৮ লক্ষ টাকা (cash recovered)। এই বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ সেখানে কীভাবে এল, কেনই বা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল? তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর তদন্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরিদপুর থানায় একটি চুরির ঘটনার তদন্ত চলছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই গোপন খবর পেয়ে গৌরবাজার এলাকার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা একটি ইটভাঁটায় হানা দেয় পুলিশ। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় মোট ৪৮ লক্ষ টাকা। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ডঃ প্রণব কুমার বলেন, “একটি ইটভাঁটায় অভিযান চালানো হয়। চুরির ঘটনার তদন্ত চলছিল। সেই তদন্তের ভিত্তিতে ৪৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। তদন্ত চলছে।”
তবে তদন্তের মূল প্রশ্ন এখন একাধিক। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস কী? কার এই টাকা (cash recovered)? কোথা থেকে এনে পরিত্যক্ত ইটভাঁটায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল? চুরির মামলার সঙ্গে এই বিপুল নগদ অর্থের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় সূত্রের দাবি, একসময় ওই ইটভাঁটায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের যাতায়াত ছিল। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল দাবি করেন, “ওই জায়গাগুলিতে তৃণমূল নেতাদের আস্তানা ছিল। নির্বাচনের আগে দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের তৃণমূল নেতাদের যাতায়াত ছিল। এই টাকার (cash recovered) সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ আছে কি না, সেটাও তদন্ত হওয়া উচিত।”
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি একদিকে চুরির তদন্ত, অন্যদিকে পরিত্যক্ত ইটভাঁটা থেকে বিপুল নগদ উদ্ধার, দুইয়ের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।


