Aaj India Desk, কলকাতা : দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় এলেও আজ ফের শহর ছাড়লেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। বুধবার সকালে কলকাতা ছাড়ার আগে তিনি বলেন, এখনও তাঁর সবচেয়ে বড় ইচ্ছা জন্মভূমি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া। তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলেই দাবি করেন তিনি।
গত ৩১ জুলাই কলকাতায় আসেন তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজেই সেই সফরের কথা জানিয়েছিলেন। প্রায় দুই দশক পর তাঁর কলকাতা সফর ঘিরে সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে আগ্রহ তৈরি হয়। তবে সেই সফর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বুধবার সকালে কলকাতা ছাড়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানান তিনি।
আবার কবে আসবেন কলকাতায় ?
কলকাতার প্রতি নিজের আবেগের কথা বলতে গিয়ে তসলিমা (Taslima Nasrin) বলেন, “কলকাতায় এসে খুব ভালো লাগল। এই শহরের সঙ্গে আমার গভীর টান রয়েছে। আগামী বইমেলায় আবার আসতে চাই। প্রয়োজনে অক্টোবর মাসেও একবার আসতে পারি।” তিনি আরও বলেন, “এই সফরে কলকাতার মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা পেয়েছি, তা আমাকে আবেগপ্রবণ করে দিয়েছে। এই স্মৃতি সারাজীবন মনে থাকবে।”
দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ
কলকাতা ছাড়ার আগে জন্মভূমি বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমি আমার দেশে ফিরতে চাই। গত ৩২ বছর ধরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছি। কিন্তু কোনওভাবেই আমাকে বাংলাদেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই আপাতত ভারতে আশ্রয় নিয়েই থাকতে হচ্ছে।” তসলিমার দাবি, দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকার পরও তাঁর জন্মভূমির প্রতি টান এতটুকু কমেনি। সুযোগ পেলেই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না বলেই জানান তিনি।
বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিজের বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন তসলিমা নাসরিন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ সরকার তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ আর নবীকরণ করছে না। শুধু তাই নয়, বর্তমানে তাঁর কাছে থাকা সুইডিশ পাসপোর্টে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসাও দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুই কারণেই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে নিজের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি জন্মভূমির মাটিতে ফিরতে পারছেন না। কলকাতার মাটি থেকে বিদায় নেওয়ার আগে তসলিমা নাসরিনের এই মন্তব্য নতুন করে তাঁর দেশে ফেরা এবং নির্বাসন প্রসঙ্গকে আলোচনায় এনে দিয়েছে।


