কলকাতা: প্রভাবশালীদের নির্দেশে ফরেন্সিক ল্যাবে ভিসেরা নমুনা নষ্ট করা হয়েছে! বৃহস্পতিবার এক প্রাক্তন ফরেনসিক আধিকারিক অভয়ার (Abhaya) বাবাকে চিঠি দিয়ে এই কথা জানিয়েছেন, বলে তথ্য সামনে আসে। বিকেলে শিয়ালদহ কোর্টে সেই চিঠি জমা দিলেন অভয়াত্র বাবা-মা। বস্তুত, বেলগাছিয়ার স্টেট ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির এক প্রাক্তন কর্মীর একটি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে ওই আধিকারিক আধিকারিক অভয়ার বাবাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন আধিকারিক ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছেন।
ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই অভয়ার ভিসেরা নমুনা নষ্ট করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তদন্তের স্বার্থে অভয়ার (Abhaya) লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যাতে তাঁর শরীরে বিষক্রিয়া বা ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করা যায়।
কিন্তু অভিযোগ, রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন আধিকারিক সেই নমুনা বদলে দেন। শুধু তাই নয়, রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগার থেকে কেন্দ্রীয় ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর সময়ও নমুনা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। সেই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা ভিসেরা নমুনা সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (CFSL) এবং সিবিআই-এর কাছে পাঠানোর আগে তা বিকৃত করা হয়েছিল।
কি বললেন অভয়ার মা?
এই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভয়ার (Abhaya) মা। তাঁর দাবি, “মেয়ের ফরেন্সিক রিপোর্টের জন্য যে নমুনা নেওয়া হয়েছিল, সেটাই সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। চার দিন খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল। কোনও নিয়ম মেনে প্রিজার্ভও করা হয়নি। গ্লাভস ছাড়াই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। অর্থাৎ গোটা প্রক্রিয়াতেই একের পর এক নিয়মভঙ্গ হয়েছে। এটা অজ্ঞতার কারণে নয়, ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এলেও অভিযোগের ঘটনা অনেক আগের। তাঁর কথায়, বিচারপতিরাও তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়, ডিনার থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, “বিচারপতিরাই বলেছিলেন, ওই রিপোর্টে কিছুই নেই।”
পরিবারের হাতে আসা চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বেলগাছিয়ার স্টেট ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির তিন আধিকারিক ভিসেরা নমুনা বিকৃত করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ওই নমুনা কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক পরীক্ষাগার ও সিবিআই-এর কাছে পাঠানোর আগে তা পরিবর্তন বা বিকৃত করা হয়েছিল।


