Aaj India Desk, কলকাতা : বিদেশে চক্ষু চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তে সহযোগিতা করা সত্ত্বেও বিদেশযাত্রার অনুমতি মেলেনি বলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। এই আবেদনের পরই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) দাবি করেছেন, চিকিৎসার আড়ালে অভিষেক আসলে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
সুপ্রিম কোর্টে অভিষেকের আবেদন
বিদেশে নিয়মিত চক্ষু চিকিৎসার জন্য অনুমতি চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ হয়ে যায়। মূল মামলারও এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এরপরই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
ঋতব্রতের অভিযোগ কী?
অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদন নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তাঁর দাবি, সাংসদদের ব্যবহৃত কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্টের কিছু আইনি সুবিধার অপব্যবহার করে অভিষেক দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।
তাঁর কথায়, “সাধারণ মানুষের পাসপোর্ট নীল হলেও সাংসদদের লাল কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকে। যে দেশে ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, সেখানে গেলে তাঁকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে। তাই তিনি বারবার বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।”
এছাড়াও, বিদেশে চিকিৎসার জন্য আগের সফরে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার উৎস নিয়েও তদন্তের দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, ওই অর্থের কতটা ব্যক্তিগত এবং কতটা রাজনৈতিক দলের, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তবে এই অভিযোগগুলিরও স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা বিচারিক সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
চোখের চিকিৎসার দীর্ঘ ইতিহাস
২০১৬ সালের অক্টোবরে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় ফেরার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের নীচে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে যেতে হয়। সেই সময় থেকেই বিদেশে তাঁর নিয়মিত চক্ষু চিকিৎসা চলছে বলে জানা যায়। বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল এবং সংশ্লিষ্ট সকলের।


