কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিজেপির (BJP) সংগঠনে নতুন মুখের ভিড় বাড়তেই শুরু হয়েছে অস্বস্তি। দলের অন্দরে জোর চর্চা, রাজনৈতিক সুবিধা ও প্রভাব খাটানোর আশায় অনেকেই এখন নিজেদের বিজেপি কর্মী বা নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনে ঢুকে পড়া ‘বেনোজল’ চিহ্নিত করতে শীঘ্রই বিশেষ ‘শুদ্ধিকরণ অভিযান’ শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
আরএসএস (RSS) ও বিজেপির একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের পাশ কাটিয়ে হঠাৎ করে দলে সক্রিয় হয়ে ওঠা নতুন মুখদের নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বুথ থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত বহু নতুন কর্মী ও নেতার আনাগোনা বাড়লেও তাঁদের রাজনৈতিক অতীত এবং দলের প্রতি প্রকৃত আনুগত্য খতিয়ে দেখা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সংগঠনের ভিত মজবুত রাখতে এবং সুযোগসন্ধানীদের দাপট রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের ফল প্রকাশের পর হঠাৎ করে গেরুয়া শিবিরে (BJP) যোগ দেওয়া নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে বুথ, মণ্ডল, জেলা ও রাজ্যস্তরের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। দলের একাংশের মতে, ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক সুবিধার আশায় বহু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে প্রকৃত সংগঠক ও দীর্ঘদিনের কর্মীদের গুরুত্ব বজায় রাখতে ‘যোগ্যতা যাচাই’-এর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির (BJP) অন্দরে সম্ভাব্য এই ‘শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া’ শুধু সাংগঠনিক রদবদলই নয়, আগামী দিনে দলের ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায় থাকবে, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিতে পারে। আরএসএসের (RSS) সক্রিয় ভূমিকা তাই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।


