Aaj India Desk, কলকাতা: লেকটাউনে (Lake Town) রহস্যজনক মৃত্যু হওয়া রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের (Ramkrishna Mission) ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র ঘটনাকে ঘিরে ফের সরব হল তাঁর পরিবার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ (Janatar Darbar)-এ পৌঁছে সৃঞ্জয়ের বাবা যদু দে দাবি করেন, ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দেখানো হলেও তাঁরা শুরু থেকেই সেই ব্যাখ্যা মানেননি। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আসল সত্য সামনে আসবে।
যদু দে-র দাবি, সৃঞ্জয় রাজনৈতিক বিষয়ে স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করত এবং নরেন্দ্র মোদীর সমর্থনে বিভিন্ন বিতর্কসভায় অংশ নিত। সেই কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ। তিনি এ ঘটনার জন্য তৎকালীন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর (Sujit Basu) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জনতার দরবার শুধুমাত্র মানুষের অভিযোগ শোনার জায়গা নয়, অভিযোগের ভিত্তিতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ারও একটি উদ্যোগ। তাঁর বক্তব্য, এখানে যাঁরা আসেন, তাঁরা ন্যায়বিচারের আশায় আসেন এবং সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনিক ও আইনি পথে যতটা সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, আগের কয়েকটি জনতার দরবারে জমা পড়া অভিযোগের অনেকগুলিরই নিষ্পত্তি হয়েছে। সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্টও দলের নেতৃত্বের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে এবং প্রতিটি অভিযোগের অগ্রগতি তিনি নিজে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন।
এদিন ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারও জনতার দরবারে উপস্থিত হয়। তাঁদের অভিযোগ শুনে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এই মামলার সঙ্গে জড়িত কাউকে আইনের হাত থেকে রেহাই দেওয়া হবে না। বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার আগে স্থানীয় পুলিশ তড়িঘড়ি চার্জশিট জমা দিয়ে তদন্তের গতিপথ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে বর্তমানে নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে এবং রানাঘাটের পুলিশ সুপারকে মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত এগোবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


