Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: চলন্ত ট্রেনে এসি কোচে আচমকা ধোঁয়া দেখে রীতিমত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন কয়েকজন যাত্রী। তবে কাছে গিয়ে তাঁরা দেখেন, উপরের বার্থে বসে চলছে পুজো, জ্বলছে ধূপ ও তেলের প্রদীপ। সেই ভিডিও ঘিরেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ঘটনাটি ঘিরে ট্রেনে অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়েও চলছে বিতর্ক। (Indian Railways Fire Safety)
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, গেঞ্জি ও ধুতি পরা এক ব্যক্তি এসি কোচের উপরের বার্থে বসে হাত জোড় করে প্রার্থনা করছেন। তাঁর সামনে একটি জ্বলন্ত তেলের প্রদীপ এবং ধূপকাঠি রাখা রয়েছে। ভিডিওটি ধারণকারী এক সহযাত্রী বারবার তাঁকে “পণ্ডিতজি” বলে ডাকলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে ওই সহযাত্রী তাঁকে সতর্ক করে বলেন, “ধূপের ধোঁয়ায় ট্রেনের ফায়ার অ্যালার্ম সক্রিয় হতে পারে। চলন্ত ট্রেনের মতো বদ্ধ জায়গায় খোলা আগুন থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।” তবু ভিডিওতে দেখা যায় যে সেই ব্যক্তি সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করেই তাঁর পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন। (Indian Railways Fire Safety)
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বহু নেটিজেন জননিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনেন। অনেকের মত, প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকলেও আগুন ব্যবহার করে কোনও ধর্মীয় আচার জনপরিবহণের ভিতরে করা উচিত নয়। কয়েকজন ব্যবহারকারী রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কেউ স্থায়ীভাবে ট্রেনে যাত্রা নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন, আবার কেউ আর্থিক জরিমানা ও আইনি পদক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছেন। (Indian Railways Fire Safety)
ট্রেনের ভিতরে ধূমপান, দাহ্য পদার্থ ব্যবহার, খোলা আগুন জ্বালানো বা অন্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন যে কোনও কাজই নিয়মবিরুদ্ধ। তবুও ভারতীয় রেলে এমন ঘটনার অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে, যা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান রেখেই জনপরিবহণে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে এমন ঘটনায় রেলের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


