Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: বাড়ির ছোট শিশু বা বয়স্ক সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ (Medicine) ফুরিয়ে গিয়েছে? কিংবা নিয়মিত খেতে হয় এমন কোনও ওষুধ কাল কিনবেন বলে ভেবেছিলেন? তাহলে আর দেরি না করে আজই সব ওষুধ কিনে রাখুন। কারণ আগামিকাল দেশজুড়ে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটের (Strike) ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (AIOCD)। এই ধর্মঘটের জেরে দেশের বহু ওষুধের দোকান বন্ধ থাকতে পারে। কেমিস্টদের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে রিটেল ডিস্ট্রিবিউশন কেমিস্ট অ্যালায়েন্সও (RDCA)।
অল ইন্ডিয়া কেমিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রায় ১২ লক্ষের বেশি সদস্য এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাই ধর্মঘট চলাকালীন দেশজুড়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ ফার্মেসি বন্ধ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিয়মিত ওষুধের উপর নির্ভরশীল রোগীরা সমস্যায় পড়তে পারেন। যদিও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা চালু থাকবে।
এই ধর্মঘটের মূল কারণ হল অনলাইন ওষুধ বিক্রির বাড়বাড়ন্ত। কেমিস্ট সংগঠনগুলোর দাবি, ই-ফার্মেসি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো অতিরিক্ত ছাড় ও দ্রুত হোম ডেলিভারির সুবিধা দিচ্ছে, যার ফলে ছোট ওষুধের দোকানগুলোর ব্যবসা মার খাচ্ছে। কোভিডের সময় অনলাইনে ওষুধ বিক্রির অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মহামারি শেষ হওয়ার পরও সেই ব্যবসা আগের মতোই রমরমিয়ে চলছে, বরং বাজার আরও বেড়েছে।
ওষুধ ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ তদারকি ছাড়াই অনলাইনে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ছোট ওষুধের দোকান চালাতে এখন খরচও অনেক বেড়েছে। দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন এবং বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলার খরচ বাড়লেও লাভের পরিমাণ তেমন বাড়েনি। বিশেষ করে ছোট শহর ও স্থানীয় বাজারের ফার্মেসিগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে।
কেমিস্ট সংগঠনগুলোর দাবি, পাড়ার ওষুধের দোকান এখনও দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই অনলাইন ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই আন্দোলনের কারণে যাতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় না পড়েন, সেই দিকেও নজর রাখা হবে। জরুরি প্রয়োজনে ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


