Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : পথকুকুরদের রাস্তা ও জনবসতি এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং স্টেরিলাইজেশনের পর আগের এলাকায় ফিরিয়ে না দেওয়ার নির্দেশ বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার আদালত ২০১৮ সালের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করে জানায়, মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে আদালত আপস করতে পারে না। (Animal Rights)
তিন বিচারপতির বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জরিয়া। বেঞ্চ জানায়, বিভিন্ন এলাকায় পথ কুকুরের আক্রমণে বহু মানুষ, বিশেষ করে শিশু, আহত হয়েছেন। সেই পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি আদালত রাজ্য সরকারগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। বিচারপতিরা বলেন, বহুবার নির্দেশ দেওয়া হলেও পর্যাপ্ত স্টেরিলাইজেশন, ভ্যাকসিনেশন ও দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। আদালতের দাবি, আগে থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি এত জটিল হতো না।
রায়ের বিরুদ্ধে সরব পশু অধিকারকর্মীরা
রায়ের পর থেকেই দেশজুড়ে বিভিন্ন পশু অধিকার সংগঠন ও প্রাণীপ্রেমীদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আদালত মানুষের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিলেও, বিশেষজ্ঞ ও অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, এই রায়টি অমানবিক, অবৈজ্ঞানিক এবং পশুকল্যাণ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। (Animal Rights)
পশুকল্যাণ সংগঠনগুলোর দাবি, দেশের বহু শেল্টার হোমে পর্যাপ্ত জায়গা, চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। অনেক ক্ষেত্রে শেল্টারে রাখার নামে কুকুরগুলো অপুষ্টি, অসুস্থতা ও অযত্নে মারা যায়। অন্যদিকে পরিচিত এলাকা থেকে কুকুরদের সরিয়ে দিলে তারা মানসিক চাপে পড়ে এবং আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কতোটা সঠিক সিদ্ধান্ত ?
পরিসংখ্যান বলছে, বেশিরভাগ কুকুর কামড়ের ঘটনা ঘটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খাবারের অভাবে। যদি সরকারগুলো সঠিকভাবে ABC (Animal Birth Control) প্রোগ্রাম চালাত, ভ্যাকসিনেশন করত এবং জনসচেতনতা বাড়াত, তাহলে এই সমস্যা এতটা ভয়াবহ হতো না। (Animal Rights)
এর আগে তেলেঙ্গানায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির নামে ব্যাপক হারে পথকুকুর হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রায় ১০০০ পথ কুকুরকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়। অথচ পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি অনুযায়ী সুস্থ কুকুর হত্যা করা বেআইনি। পশু প্রেমীদের মতে, আদালতের এই রায়ে ফের দেশ জুড়েই পথ কুকুরদের হত্যার ঘটনা শুরু হবে। তাদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় পশুকল্যাণ আন্দোলনের উপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। এর ফলে হাজার হাজার কুকুরকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে অজানা জায়গায় ফেলে দেওয়া হবে। অনেক শেল্টারের অবস্থা করুণ, খাবার নেই, চিকিৎসা নেই, জায়গা নেই। ফলে এটি পরোক্ষভাবে গণহত্যার রাস্তা খুলে দিচ্ছে বলেই আশঙ্কা করছেন পশু অ্যাক্টিভিস্টরা।


