Aaj India Desk, কলকাতা : মঙ্গলবার কাঁকুড়গাছিতে এক চা চক্রে অদ্ভুত দাবি করে বসলেন রাজ্যের নব নিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আগেও গরুর গুণাগুণ নিয়ে অবৈজ্ঞানিক মন্তব্য করে বার বার নানান বিতর্কে উঠে এসেছে তাঁর নাম। মঙ্গলবার আরেকটি গো-গুণের যোগে ফের বিতর্কের মুখে পড়লেন তিনি।
কী বলেছেন দিলীপ ?
দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) বক্তব্য, গরুর গায়ে হাত বোলালে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। গরুর গলকম্বল বা পিঠের কুঁজে হাত বোলালে দ্রুত ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি গরুর গোবরেরও রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এই ধারণা এসেছে। এক আত্মীয়ের শরীরের ফোলা অংশে গরুর গোবর লাগানোর পর তা কমে গিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) দাবি করেছিলেন, “গরুর দুধে সোনা থাকে।” সেই মন্তব্য নিয়েও সে সময় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছিল। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বিজেপি আসার পর দেশের অন্য রাজ্যেও অনুরূপ মন্তব্য শোনা গিয়েছে। ২০২৪ সালে সঞ্জয় সিং উত্তর প্রদেশের এক গৌশালার অনুষ্ঠানে দাবি করেছিলেন, নিয়মিত গরুর পিঠে হাত বোলালে রক্তচাপ কমতে পারে।
কী বলছে চিকিৎসা বিজ্ঞান ?
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, পশুপাখির সংস্পর্শে থাকলে মানসিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। ‘পেট থেরাপি’ বা প্রাণী-সহায়ক থেরাপি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণাও রয়েছে। তবে শুধুমাত্র গরুর শরীরে হাত বোলালে রক্তচাপ কমে যায় বা গোবর রোগ সারায়, এমন দাবির পক্ষে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে এই ধরনের মন্তব্যে বিশ্বাস করে মানুষ আসল চিকিৎসা ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বেশ কিছু চিকিৎসক।
বাস্তবিক, জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কোনও মন্ত্রী যখন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত মন্তব্য করেন, তখন অনেকেই সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরে নেন। সেই জায়গা থেকেই প্রশ্ন উঠছে যে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া গরুর গায়ে হাত বোলালে রক্তচাপ কমে বা গোবর দিয়ে রোগ সারানোর মতো দাবি কতটা দায়িত্বশীল?


