Aaj India Desk, কলকাতা : আর্থিক প্রতারণা ও তোলাবাজির মামলায় গতকালই গ্রেপ্তার হন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’ (Sona Pappu)। মঙ্গলবার সকালে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য তাঁকে বিধাননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয় সেই এলাকায়। হাসপাতালের বাইরে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশই তাঁকে দেখে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরে ইডি (ED) আধিকারিকরা তাঁকে আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি নেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) খোঁজ চলছিল। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে ‘লুকিয়ে থাকার’ পর সোমবার তিনি নিজেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজির হন।টানা প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে অন্তত ছ’বার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
যদিও গ্রেপ্তারের আগে সোনা পাপ্পু (Sona Pappu) দাবি করেন, তিনি কোনও বেআইনি কাজ করেননি। তাঁর বক্তব্য, “আজ পর্যন্ত থানায় আমার বিরুদ্ধে তোলাবাজির একটি অভিযোগও দায়ের হয়নি।” তবে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগোচ্ছে।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি ধাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোড এলাকায় দখলদারি ঘিরে উত্তেজনার ঘটনায় প্রথম বড়ভাবে সামনে আসে সোনা পাপ্পুর নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় এলাকায় গুলিও চলেছিল। এরপর থেকেই তাঁকে খুঁজতে শুরু করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। যদিও তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও, মাঝে মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
তদন্তের মাঝেই প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমার-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর ছবি প্রকাশ্যে আসে। যদিও রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও রাজনৈতিক যোগের দাবি করেনি। সেই সময় সোনা পাপ্পুর খোঁজ না মিললেও, ইডি তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেপ্তার করে। পরে কলকাতা পুলিশের অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। বর্তমানে সোনা পাপ্পুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আর্থিক লেনদেন, জমি দখল এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগের দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


