Aaj India desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল অভিযোগ জানিয়ে আসছে । সরকারি স্কুলের পড়াশোনার মান যেমন খারাপ হয়েছে, তেমনিই ছাত্র ও শিক্ষক সংখ্যাও কমেছে। ফলে শিক্ষার হাল বেহাল হয়েছে। এই অবস্থায় অধিকাংশ অভিভাবক ভরসা করতে চেয়েছেন বেসরকারি স্কুলকে। কিন্তু সেখানেও মাত্রাতিরিক্ত ফিস। ফলে শিক্ষার অধিকার নিম্নবিত্ত মানুষের সাধ্যের আওতার বাইরে চলে যায়। এই অবস্থায় নবগঠিত বিজেপি সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে যে ঢেলে সাজাতে চাইছে সেকথা আজ আবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (suvendu adhikari)। পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলগুলিকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সরকারি স্কুল কোন পথে?
আজ রাজ্য সরকারের তরফে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।সেখানে শুভেন্দু (suvendu adhikari) জানান এবার জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করা হবে। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি পিএমশ্রী বিদ্যালয় গড়া হবে।পুরোনো সিলেবাস বদলে নতুন সিলেবাস আনা হবে। এছাড়াও স্মার্ট ক্লাসরুম চালু-সহ একাধিক বিষয় সরকারি স্কুলগুলিতে চালু হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।ধর্ম নয়, মেধা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে স্কলারশিপের সুবিধা পাবেন পড়ুয়ারা। বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ এবার শুরু হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বেসরকারি স্কুলকে হুঁশিয়ারি!
রাজ্যে গত কয়েক বছরে প্রচুর সংখ্যায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সেখানে লাগামছাড়া স্কুল ফি দিতে পড়ুয়াদের বাবা মায়েদের নাভিশ্বাস ওঠে। শুভেন্দু (suvendu adhikari) বলেন,” বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আবেদন করব অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে ভাবে ফিস বা অর্থ নিচ্ছেন, সেটা যেন কম করেন। এছাড়াও তাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত।” অনেক বিদ্যালয়ে মূল্যায়নে অনেক একচোখামি হয়। শুভেন্দু জানান অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট বিলি সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সেসবের নিষ্পত্তি করে পড়ুয়াদের মানোন্নয়নের জন্য যেন তারা কাজ করেন, আর্জি শুভেন্দুর। নিয়োগ দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগে বিদ্ধ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা কি সত্যিই উন্নতি হবে, নাকি আসলে তা গৈরিকীকরণের দিকে যাচ্ছে? উঠছে প্রশ্ন।


