Aaj India Desk, কলকাতা: সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে (Shantanu Sinha Biswas) একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। দীর্ঘদিন বেপাত্তা থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে অবশেষে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।
কেনো গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে ?
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সোনা পাপ্পু মামলার তদন্তে উঠে আসা আর্থিক লেনদেন, তোলাবাজি এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগের সূত্র ধরেই শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে (Shantanu Sinha Biswas) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল শান্তনুর। জয় কামদার মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিল ইডি। জয়ের সাথে মিলে বিভিন্ন প্রোমোটিং ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বেআইনি প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ আদায়ে শান্তনুর নাম জড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি। এছাড়াও বালি পাচার এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের সূত্রও খতিয়ে দেখছে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং তল্লাশি অভিযানে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একের পর এক সমন এড়িয়েছিলেন কমিশনার
সোনা পাপ্পু মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাস (Shantanu Sinha Biswas)। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ১৯ এপ্রিল তাঁকে তলবের পরও নির্ধারিত দিনে তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে উপস্থিত হননি। এর মধ্যেই তাঁর বাড়ি ও পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। পরে ফের ২৮ এপ্রিল তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়। কিন্তু সেইবারেও ইডির দপ্তরে হাজির হননি তিনি। এরপর অবশেষে আজ আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে ইডির দপ্তরে হাজির হন শান্তনু।
শান্তনুর গ্রেপ্তারের পর তদন্ত এবার কোন দিকে এগোবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।


