Aaj India Desk, কলকাতা : বৃহস্পতিবার বিধানসভায় শপথ গ্রহণ করলেন তৃনমূল নেতা ও বেলেঘাটার বর্তমান বিধায়ক কুনাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। শপথ গ্রহণের পরই নিজের সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ের গুণগান করেন। সদা বিজেপিকে আক্রমণ করা কুণালের গলায় এই অন্য সুর দেখেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
কী বললেন তিনি ?
কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক তথা প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। এখানেই নাকি রাজনীতির “ভাগ্যচক্র” বলে নিজের পোস্টে জানিয়েছেন তিনি। একসময় তাপস রায়কে তৃণমূলে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি নিজেই। পরে তাপসদাকে “ভালো মানুষ” বলায় দল তাঁকেই সাসপেন্ড করেছিল। এখন সেই তাপসদার হাত ধরেই বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন তিনি।
কুণাল ঘোষের পোস্ট : https://x.com/i/status/2054858493748724092
পোস্টে কুণাল আরও দাবি করেন, উত্তর কলকাতার একাধিক নেতা যেমন সজল ঘোষকেও দল ছাড়তে “বাধ্য” করা হয়েছিল। যদিও কারা বাধ্য করেছিলেন, সেই রহস্য অবশ্য “হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স”এর কুয়াশাতেই রেখে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি লেখেন, “কর্মীরা ধৈর্য হারাচ্ছেন” এবং দলকে চাঙ্গা করতে আত্মবিশ্লেষণ জরুরি। “জয় বাংলা” লিখে পোস্ট শেষ হলেও, “পুনশ্চ: কেস দেবেন না প্লিজ” লাইন ঘিরেও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
কীসের সুর কুণালের গলায় ?
সাম্প্রতিক মন্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে যে ধরনের ক্ষোভ, আত্মসমালোচনার ডাক এবং দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুনাল (Kunal Ghosh), তাতে ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরে চলে যাওয়া নেতাদের প্রসঙ্গে তাঁর সহানুভূতিশীল অবস্থান এবং দলের অন্দরের “হোয়াটসঅ্যাপ পলিটিক্স” নিয়ে প্রকাশ্য কটাক্ষ সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি নিজেকে “তৃণমূলের সৈনিক” বলেই দাবি করেছেন। তবে বাংলার রাজনীতিতে সম্পর্ক ও সমীকরণ দ্রুত বদলায়। এর আগেও ঋজু দত্ত সহ বেশ কয়েকজন তৃনমূল কর্মী নিজের দল ছেড়ে দিয়েছেন বা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। তাই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা আপাতত উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল।
আবার অনেকের মতে, এই পোস্টের মাধ্যমে “আমি আছি, তবে খুশি নই” জাতীয় বার্তা দিতে চাইলেন কুনাল। তবে যে কারণেই হোক, বিজেপির সাথে বন্ধুত্বের খানিক ইঙ্গিত ঝড়ে পড়েছে তাঁর পোস্টে। ফলে আপাতত তাঁর পরবর্তী কাজের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


